ঘরের মাঠে শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ১৬ সদস্যের এই দল থেকে বাদ পড়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। আগামী মে মাসে শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল। যা আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত। সেই সিরিজকে সামনে রেখে দল ঘোষণা করা হয়েছে। দলে কোনো চমক নেই। এক সিরিজ পরই টেস্ট দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান। অবশ্য ঘরের মাঠে ইনজুরির কারণে টেস্ট দলে নেই পেসার তাসকিন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবান টেস্টের দ্বিতীয় দিন কাঁধে ব্যথা পান এ পেসার। ওই ইনিংসে বোলিং করলেও পরবর্তীতে লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাসকিনকে। গুঞ্জন রয়েছে চিকিৎসার জন্য তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হতে পারে। তাসকিনের পরিবর্তে টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন রেজাউর রহমান। অবশ্য এই প্রথম ডাক পাননি তিনি। এর আগেও টেস্ট দলে ডাক পড়েছিল তার। এছাড়া টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। বিগত সময়ে ব্যাট হাতে রানের দেখা পাননি এ তরুণ ওপেনার। পেসারদের মধ্যে কোনো ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়েছেন আবু জায়েদ রাহি। শরিফুলের টেস্ট খেলা এখনও ঝুলছে ফিটনেস টেস্টের ওপর। ফিটনেস টেস্ট উতরাতে পারলেই ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিপক্ষে দেখা যাবে তাকে। বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের দল – মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন দাস, ইয়াসির আলি চৌধুরী, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, এবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, নুরুল হাসান সোহান, রেজাউর রহমান রেজা, শহিদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম*। একনজরে শ্রীলংকার বাংলাদেশ সফরের সূচি ৮ মে: বাংলাদেশে পা রাখবে শ্রীলংকা ১১-১২ মে: দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ, বিকেএসপি ১৫-১৯ মে: প্রথম টেস্ট, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম ২৩-২৭ মে: দ্বিতীয় টেস্ট, শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর ২৮ মে: বাংলাদেশ ছাড়বে শ্রীলংকা।
100002
শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা
প্রকাশিত: ১৬:০০, ২৪ এপ্রিল ২০২২; আপডেট: ১৬:১০, ২৪ এপ্রিল ২০২২
খেলা



সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ শংকর কুমার দে ॥ কতিপয় ইসলামী দলের রবিবারের হরতাল কেন ? হরতাল ডাকার নেপথ্যের ‘রহস্যাবৃত’ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা। রবিবারের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবিতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে ডাকা হরতালের নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লতিফ সিদ্দিকী তো বিদেশে। সরকার তাকে গ্রেফতার করবে কিভাবে ? ইসলামী দলগুলোও জানে সরকার ইচ্ছে করলে তাঁকে বিদেশ থেকে এনে এই মুহূর্তে গ্রেফতার করতে পারবে না। তাহলে হরতাল কেন ? নেপথ্যে রয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে আঁতাত করে সরকারের পতন ঘটানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ইসলামী দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের নেতাদের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলন চাঙ্গা করতেই লতিফ সিদ্দিকী ইস্যু সামনে এনে হরতালের ডাক দিয়েছে ইসলামী দলগুলো। ইসলামী দলগুলোর ডাকা রবিবারের হরতালের দিনেই বেগম জিয়ার দুর্নীতির মামলায় আদালতে হাজিরা দেয়ার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ। আদালতে হাজির না হওয়ার একটি অজুহাত তৈরির জন্যও হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে। হরতালের নৈরাজ্য ও নাশকতা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সংস্থা উল্লেখ করেছে, হজ ও তবলীগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে থাকা অবস্থায়ই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। তারপর মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করা হয় লতিফ সিদ্দিকীকে। আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে। এমনকি তাঁকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্নস্থানের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়েছে। দেশে থাকলে এতদিনে লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার হতেন, এমনকি তাঁকে যে কারাগারে পাঠানো হতো তা এতসব আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরকার যেভাবে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা নজিরবিহীন। তার পরও ইসলামী দলগুলো লতিফ সিদ্দিককে গ্রেফতারের দাবিতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে হরতাল ডাকল কেন? বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে সফরে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যে কঠোর বক্তব্য দিচ্ছেন তার নেপথ্যে ইসলামী দলগুলোর গোপন সমঝোতা। ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের একটি গোপন বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে। আগামীতে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন হবে তাতে তারা অংশী নেবে ইসলামী দলগুলো। সরকার পতনের আন্দোলনকে বেগবান করতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আন্দোলনের যে হুঙ্কার দিচ্ছে, তাতে ইসলামী দলগুলোর অংশগ্রহণের ইঙ্গিত হিসেবেই হরতাল ডাকা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রবিবার যেদিন ইসলামী দলগুলো হরতাল ডেকেছে সেদিনই বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আদালতে একটি দুর্নীতির মামলায় হাজির হওয়ার পূর্ব নির্ধারিত দিন। রবিবার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দেয়ার কথা আছে। হরতালের কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির না হওয়ার একটি অজুহাত তৈরি করে দিতে ইসলামী দলগুলো হরতালের ডাক দিয়েছে। এটাও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি ইসলামী দলগুলোর গোপন বৈঠকের সমঝোতার ফসল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
100004
বেগম জিয়ার হাজিরা না দেয়ার অজুহাত হিসেবেই আজ হরতাল
প্রকাশিত: ০৪:২৭, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
জাতীয়



স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে নরঘাতকদের শিরোমণি কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের কফিনে জুতো নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তেত্রিশ বছর আগে আরও একবার এই মসজিদেই জুতোপেটার শিকার হয়েছিল নরঘাতক গোলাম আযম। নামাজে জানাজার জন্য জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পশ্চিম পাশে আপন জুয়েলার্সের সামনে কফিন নামানো হলে একাধিক জুতো নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ব্যাপক হইচই হয়। এবার শুধু কফিনে জুতো মারাই নয়, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের মতো পবিত্র স্থানে পাকিস্তানী হানাদারদের প্রধান দোসর গোলাম আযমের জানাজার প্রতিবাদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত কড়া প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের মুখে জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে যানবাহন রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত সাধারণ জায়গায় কফিন রেখে জানাজা করা হয় নরঘাতক গোলাম আযমের। জানাজায় শত শত লোকের সমাগম ঘটেছিল। এর মধ্যে উৎসুক মানুষের পরিমাণও ছিল অনেক। তারা বায়তুল মোকাররমের আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে জানাজা নিয়ে কী হয়Ñতাই দেখার জন্য এসেছিলেন। জানাজায় অংশ নেয়াদের অধিকাংশই ঢাকা, ঢাকার আশপাশ এলাকা মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, সাভার, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে গাড়ি দিয়ে আনানো হয়েছিল। গোলাম আযমের জানাজা উপলক্ষে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটিয়ে জামায়াত-শিবিরের বড় ধরনের শোডাউন করার উদ্দেশ্য ছিল। প্রসঙ্গত, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯০ বছর কারাদ- হয় কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের। সাজা ভোগকালেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজনসেলে গত বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। ৮৯ বছর কারাভোগ বাকি থাকতেই মৃত্যু হয় ৯২ বছর বয়সী গোলাম আযমের। মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে গোলাম আযম বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের নেতৃত্ব দিয়েছিল। শনিবার জোহর নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গোলাম আযমের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেয় তার পরিবার। শনিবার সকাল ১০টা থেকেই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে বায়তুল মোকাররমসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বায়তুল মোকাররমের উত্তর ও দক্ষিণ গেট, পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলা, আশপাশের প্রতিটি গলি, বড় মগবাজার, বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউসহ পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব। বায়তুল মোকাররমের চারদিকে বসানো হয় একাধিক জলকামান ও এপিসি (আর্মার পার্সোনাল ক্যারিয়ার)। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, শুধু তিন শতাধিক পুলিশই মোতায়েন রয়েছে। এর বাইরে র‌্যাব, ডিবি, এসবিসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও রয়েছে। যেকোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলায় র‌্যাব সব সময় প্রস্তুত ছিল বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। সকাল থেকেই দলে দলে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, গণজাগরণ মঞ্চ, অনলাইন ব্লগার এ্যাক্টিভিস্ট ফোরামসহ স্বাধীনতাযুদ্ধের পক্ষের লোকজন বায়তুল মোকাররমের আশপাশের এলাকা, বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্র্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে থাকেন। তাঁরা কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের জানাজা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের মতো পবিত্র জায়গায় না করার প্রতিবাদে সেøাগান দেন। এ অবস্থায় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে পর পর ৭টি ককটেলের বিক্ষোরণ ঘটে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে হাজির হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ পুরানা পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয়। আর জিরো পয়েন্ট ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দুপুর ১টায় সাদা রংয়ের আলিফ মেডিক্যাল সার্ভিসের একটি ছোট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাশবাহী গাড়িতে গোলাম আযমের কফিন পৌঁছে বায়তুল মোকাররমের পশ্চিম পার্শে মার্কেটের সামনে। লাশবাহী গাড়ির আগে পিছে দুইটি দেড় টন ওজন ধারণক্ষম ট্রাক আর দুইটি পিকআপ, একটি এ্যাম্বুলেন্স আর তিনটি প্রাইভেটকার ছিল। কফিন নামানো হয় তিনতলা বায়তুল মোকাররম মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত স্বর্ণের গহনার দোকান আপন জুয়েলার্সের সামনে। কফিন ভেতরে নেয়ার জন্য গেটের তালা খোলা হচ্ছিল। এ সময় সেখানে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। এমন অবস্থার মধ্যেই আচমকা গোলাম আযমকে গালিগালাজ করে কয়েক প্রতিবাদী একাধিক জুতো নিক্ষেপ করে। প্রসঙ্গত, মহান স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতি ঘৃণার প্রকাশ হিসেবে ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে এক জানাজায় অংশ নিতে গেলে গোলাম আযমকে জুতোপেটার ঘটনা ঘটেছিল। জুতো নিক্ষেপের ঘটনায় ব্যাপক হইচই শুরু হয়। জুতো নিক্ষেপকারীরা দ্রুত ভিড়ে মিশে যান। পুলিশ দ্রুত সেখানে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত গেটের তালা খুলে লাশের কফিন ঢুকিয়ে ফেলা হয়। কফিন রাখা হয় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সিঁড়ির গোড়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে গাড়ি রাখার জায়গায়। ততক্ষণে যোহরের নামাজের আজান হয়ে যায়। যথারীতি নামাজ শেষ হয়। দুপুর পৌনে ২টায় জানাজা শুরুর আগে গোলাম আযমের চতুর্থ ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আল আযমী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, তাঁর পিতা ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন। গোলাম আযমকে ভাষাসৈনিক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তাঁর পিতার জানাজায় শুধু দেশের বিভিন্ন জেলা নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও মানুষ এসেছেন। তাঁর পিতাকে মিথ্যা মামলায় সরকার সাজা দিয়েছিল। এত দিন মানবেতরভাবে তাঁর পিতাকে জেলে থাকতে হয়েছে। গোলাম আযমের মৃত্যু মানেই ইসলামী আদর্শের মৃত্যু নয়। ব্যক্তি গোলাম আযমকে ভাল না বাসলেও তাঁর আদর্শকে ভালবাসতে হবে। এ দেশে তাঁর পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে লাখ লাখ গোলাম আযমের জন্ম হবে। তিনি আরও বলেন, তাঁর পিতা খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। জ্ঞানত তিনি কোন অপরাধ করেননি। তারপরও তিনি যদি কোন অন্যায় করে থাকেন এ জন্য তিনি তাঁর পিতার হয়ে ক্ষমা চাইছেন। তিনিই পিতার জানাজা নামাজের ইমামতি করেন। জানাজা শেষে কফিন নিয়ে লাশবাহী গাড়িটি বড় মগবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। এবার যাতে জুতো নিক্ষেপের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এ জন্য জামায়াত-শিবিরের লোকজন রাস্তায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যান। তাঁরা গাড়ি যাতায়াতের জায়গা রেখে পুরো রাস্তা বন্ধ করে দেন। গাড়িটি দুপুর সোয়া ৩টায় বড় মগবাজার কাজী অফিস গলিতে গোলাম আযমের বাড়িতে পৌঁছে। বিকেল সাড়ে ৩টায় গোলাম আযমের মুখ শেষবারের মতো দেখার জন্য কিছু সময় খুলে রাখা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় জানাজা না করেই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোলাম আযমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নেয়া মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুসল্লিদের প্রায় শতভাগই জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী। এদের অনেককেই বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি ভাড়া করে আনা হয়েছে। নুরুল হুদা নামে এক যুবক বলেছেন, তিনি ফেনীর দাগনভূঁঞা থেকে এসেছেন। গোলাম আযমের জানাজায় অংশ নেয়ার পাশাপাশি জানাজা উপলক্ষে বড় ধরনের শোডাউন করতেই তাঁর মতো অনেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তরফ থেকেও এমন নির্দেশই রয়েছে। শুধু ফেনী নয়, রাজধানীর প্রতিটি ইউনিট ছাড়াও ঢাকার আশপাশের সাভার, কেরানীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। গোলাম আযমের বাড়িতে যাওয়ার পথে কথা হয় অনেকের সঙ্গেই। কক্সবাজার থেকে এসেছেন আব্দুস সালাম (৪৩)। তিনি বলছেন, গোলাম আযমের মৃত্যু হয়েছে। তার জানাজায় আসতে দলের তরফ থেকে বলার পাশাপাশি আমাদেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। দলের তরফ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। ধানম-ি থেকে এসেছেন তরিকুল ইসলাম (৪৫)। তিনি বলেছেন, শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশ থেকেই তাদের লোকজন আনা হয়েছে। গোলাম আযমের জানাজা উপলক্ষে জামায়াত-শিবির আবার নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়েছে। জানাজায় অংশ নেয়া অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেছে, জানাজায় অংশ নেয়া প্রায় সবাই জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী। দলের নির্দেশে তাদের অধিকাংশই ঢাকা, ঢাকার আশপাশ ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। তাঁদের অনেকেই গোলাম আযমের বাড়ি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও চেনেন না বলে দাবি করেছেন।
100005
কফিনে পড়ল জুতো, ফাটল বোমা, এর মধ্যে কুখ্যাত গোলামের জানাজা
প্রকাশিত: ০৪:২৮, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
জাতীয়



০ নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত বিনিয়োগে হতাশা ০ কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে নেতিবাচক প্রভাব ০ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ জমি ও অবকাঠামোর ফাঁদে আটকে আছে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও প্রকৃত বিনিয়োগ নিয়ে হতাশা কাটছে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজমান থাকলেও শুধু জমি ও অবকাঠামো সমস্যার কারণেই দেশে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ হচ্ছে না । এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। এ প্রেক্ষিতে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দ্রুত সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, অর্থনীতিবিদ, শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন জনকণ্ঠকে বলেন, গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার পরও বর্তমানে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ছে। সেই পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পেরেছি। তারপরও সবাই জানি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমি ও অবকাঠামো সমস্যা রয়েছে। আজ (শনিবার) অনুষ্ঠিত আমাদের বোর্ড সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি ও অবকাঠামো সমস্যা সমাধানের জন্য কি কি করা যায় সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কেননা বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। যেমন, জমি দেয়া হয়েছে বলেই জাপান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসছে। কয়েকদিন আগে ইতালি সফরে দেখেছি প্রচুর বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এখন সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে. মুজেরী জনকণ্ঠকে বলেন, বিনিয়োগ বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী নিবন্ধিত বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হয়ত কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন মানে তো আর বিনিয়োগ নয়। এটি হচ্ছে ইনটেনশন বা বিনিয়োগের ইচ্ছা। তাই প্রকৃত বিনিয়োগ কতটা হচ্ছে সেটিই ভাবনার বিষয়। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে বেসরকারী বিনিয়োগ শ্লথ। যেখানে বেসরকারী বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত গতি পায়নি, সেখানে বিদেশী বিনিয়োগ আশা করা যায় না। বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বাধা হিসেবে মনে করছি জমির দুষ্প্রাপ্যতা এবং অবকাঠামো সমস্যা। এক্ষেত্রে যোগাযোগ খাতের বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতি, বিদ্যুত সমস্যা ও পোর্টের ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা বিরাজ করছে। তার মধ্যেও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সামান্য উন্নতি হলেও সামগ্রিকভাবে কাক্সিক্ষত মাত্রায় হচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নীতির ক্ষেত্রে খুব বেশি সমস্যা নেই। তারপরও কোরিয়ান ইপিজেড নিয়ে যে সমস্যা হয়েছে তাতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল সিগন্যাল যাচ্ছে। আমরা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দ্রুত করতে পারছি না বা ধীরগতি বিরাজ করছে। এখন কিছু বিদেশী মাল্টিন্যাশনাল বিনিয়োগ দ্রুত দেশে আনতে হবে। তাহলে অন্যরা দেখে উৎসাহিত হবে। সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত তিন মাসে শতভাগ বিদেশী প্রতিষ্ঠান ১০টি এবং যৌথ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ১৬টিসহ মোট ২৬টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে। এগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০৭ কোটি ৫৮ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা। তার আগের তিন মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছিল ৪০টি প্রতিষ্ঠান। এতে বিনিয়োগ হয়েছিল ১ হাজার ১৬৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে যৌথ ও শতভাগ বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে ৫৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করায় দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। বিনিয়োগ বোর্ডের সর্বশেষ নিবন্ধিত শিল্পের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে শতভাগ বিদেশী প্রতিষ্ঠান ১২টি এবং যৌথ বিনিয়োগের জন্য নিবন্ধিত ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৭টি নিবন্ধিত শিল্প ইউনিটের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এসব ইউনিটে বিনিয়োগের পরিমাণ এক হাজার ৭১১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে তার আগের তিন মাসের তুলনায় প্রস্তাবিত বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। পাশপাশি বেড়েছে দেশী বিনিয়োগ নিবন্ধনের সংখ্যাও। বিনিয়োগ বোর্ড বলছে স্থানীয় ও বৈদেশিক মিলে সম্মিলিতভাবে বস্ত্রশিল্প খাতে বেশী বিনিয়োগ পাওয়া গেছে; যা মোট বিনিয়োগের ৩৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এছাড়া পর্যায়ক্রমিকভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ২৯ দশমিক ৩১, রসায়ন শিল্প খাতে ১৩ দশমিক ৫৬, সেবা খাতে আট দশমিক ২৬ এবং অন্যান্য শিল্পখাতে ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে। বিনিয়োগ বিষয়ে এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস মুর্শেদী জনকণ্ঠকে বলেন, বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধিত শিল্প ইউনিটের সংখ্যা বাড়লেই যে আশান্বিত হতে হবে এমন কোন কথা নেই। বাস্তবতা হচ্ছে অনেক দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারী নিবন্ধন করে দুশ্চিন্তায় আছে। প্রায় দুই শ’র মতো কোম্পানি ব্যাংক ঋণ ম্যানেজ করেছে অন্যান্য কাজও করেছে; কিন্তু ইউটিলিটর অভাবে কারখানা চালু করতে পারছে না। আবার অনেকেই সবকিছু রেডি করেছে কিন্তু জমি পাচ্ছে না। তাছাড়া রফতনিমুখী শিল্পের উদ্যোক্তারা হিমসিম খাচ্ছে। কারণ গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যদিও এখন নেই তারপরও পরিবহন খাতের সমস্যা এবং ব্যাংকিং খাতেও সমস্যা বিরাজমান। এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্স আসার কারণে আমাদের কমপ্লায়েন্স ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগের জন্য একটি অন্যতম উপাদান জমির দাম এখন সবচেয়ে বেশি। বিদ্যুত, গ্যাস ও অবকাঠামো খাতের সমস্যা সমাধান করে কিছু শিল্পে সরকারকে রিফাইন্যান্সিং করা উচিত, যেটি ভারতে আছে। এখন বলতে গেলে বলতে হয় উদ্যোক্তারা নিজেদের টিকিয়ে রাখার কাজে ব্যস্ত। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগ আনতে গেলে সরকারীভাবে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের মতে, চলতি অর্থবছরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে গেলে ৩৪ থেকে ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ দরকার। বর্তমানে জিডিপির ২৮ শতাংশ বিনিয়োগ হচ্ছে। এক বছরের মধ্যে তা ৩৪ শতাংশে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হচ্ছে ভূমি ও অবকাঠামো। এজন্য যে চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা দ্রুত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো তৈরি হলে সেখানে ব্যাপক বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। তাছাড়া তৈরি পোশাক খাতের চলমান সংস্কারের পাশাপাশি পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম ডবল লাইন রেলপথ, ঢাকা মেট্রোরেলসহ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় নেয়া বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন করতে হবে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের জন্য পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় হার এখন জিডিপির ৩০ শতাংশ; যা অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ হারের চেয়ে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। ঢাকা অফিসে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিনিয়োগ হওয়ার মতো সম্ভাবনা ও অর্থ থাকলেও রাস্তাঘাট, অবকাঠামো, গ্যাস, বিদ্যুত ও বন্দর সুবিধা, অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হলে বেসরকারী ও বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। বিনিয়োগ বিষয়ে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রুপালী চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের বিনিয়োগের প্রধান সমস্যাই হচ্ছে জমি নিয়ে। সেই সঙ্গে অবকাঠামো। এই দুই সমস্যার কারণে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ আসছে না। ফলে কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিও হচ্ছে না। এজন্য অতি দ্রুত সরকারকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করতে হবে। রাস্তা, বন্দর, বিদ্যুত-গ্যাস সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। আর একটি বিষয় হচ্ছে, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। তাহলে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, চলমান ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ বছরে মোট দেশজ বিনিয়োগ ধরা হয়েছে যথাক্রমে (জিডিপির অংশ) ২৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ, ২৮ দশমিক চার শতাংশ, ২৯ দশমিক ছয় শতাংশ, ৩১ শতাংশ এবং শেষ বছরে ৩২ দশমিক পাঁচ শতাংশ। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ (জিডিপির অংশ) যথাক্রমে ২০ দশমিক নয় শতাংশ, ২২ দশমিক দুই শতাংশ, ২৩ শতাংশ, ২৪ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ। অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ( জিডিপির অংশ) যথাক্রমে দুই শতাংশ, তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ, চার দশমিক পাঁচ শতাংশ, পাঁচ শতাংশ এবং ছয় শতাংশ। সরকারী খাতে বিনিয়োগ (জিডিপির অংশ) যথাক্রমে পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ, ছয় দশমিক দুই শতাংশ, ছয় দশমিক ছয় শতাংশ, সাত শতাংশ এবং সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ। ২০১১ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হওয়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ২০১৫ সাল নাগাদ সরকারী ও বেসরকারী বিনিয়োগ জিডিপির ৩২ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ওই বছর বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ। কিন্তু সম্প্রতি মধ্যবর্তী মূল্যায়নে দেখা গেছে, চার বছর পর এখন সরকারী-বেসকারী বিনিয়োগ হয়েছে জিডিপির ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বাকি এক বছরে তা তিন শতাংশ বাড়িয়ে ৩২ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,সরকারী ও মোট বিনিয়োগের লক্ষ্য ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্র্ণ নয়। যদিও পূর্বের যেকোন সময়ের তুলনায় বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে; তারপরও মোটের ওপর ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিনিয়োগের লক্ষ্য পূরণ হবে না। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ গ্লোবাল কার্যসম্পাদন ক্ষমতা র‌্যাংকিং হতে দেখা যায় বিনিয়োগের পরিবেশ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রক্ষেপণ মতো সহায়ক নয়। এ বিষয়ে পরিকল্পনার মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেই বিনিয়োগ আসবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর ধরে সিভিল ওয়্যার চলছে। সেসব দেশে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বেড়েই চলছে। আমাদের দেশে মূল সমস্যা হচ্ছে জমির সঙ্কট আর অবকাঠামো। যদিও বিদ্যুত সমস্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছে কিন্তু গ্যাস দিতে পারছি না। বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় ভাল আছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা আস্থা ফিরে আসছে। বিনিয়োগ নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট উদার হলেও আমাদের প্রধান দুটি সমস্যা সমাধান দ্রুত করতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) ‘বিশ্ব বিনিয়োগ রিপোর্ট ২০১৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অর্থনীতির ওপর আস্থা থাকায় ২০১৩ সালে দেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে। এজন্য গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও তার প্রভাব পড়েনি বিদেশী বিনিয়োগে। দেশে গত বছর এই বিনিয়োগ হয়েছে ১৫৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। আর সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে ব্যাংকিং, টেক্সটাইল এবং টেলিকমিউনিকেশন্স খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে বিশ্বে এফডিআই ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংস্থাটি মনে করছে, ২০১৪ সালে আঙ্কটাড প্রকল্পের আওতায় উন্নত দেশগুলোতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আর ২০১৬ সালে তা ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। আঙ্কটাডের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে এই বিনিয়োগের বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তা ২০১২ সালে ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছিল। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই বৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগ হয়েছে ২ হাজার ৮১৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে বেসরকারী বিনিয়োগের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে (এলডিসি) এটা বেশিমাত্রায় কমেছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরে বাংলাদেশের অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আশা করছি-এফডিআই আগামী বছর ৫০ শতাংশ বেড়ে ২ থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। তবে এজন্য অবকাঠামো খাতের ব্যাপক উন্নতি দরকার হবে। সরকার সেই লক্ষ্য সামনে নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, এটা ঠিক, আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রতি বিদেশীদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা রয়েছে। এজন্য দেশের উৎপাদনমুখী বিভিন্ন শিল্পখাতে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে। তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে গঠন করা হচ্ছে বিসিআইএম। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে দেশে বিদেশীরা আকৃষ্ট হচ্ছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে বিদ্যুত দিতে অবকাঠামো দরকার। এখন সেই অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এর আগে এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, শ্রমঘন ছয় খাতে দেড় কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। একে কাজে লাগাতে ৫টি পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর ওপর ভিত্তি করে একটি কর্মকৌশল তৈরি করছে সরকার। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই ১৭টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছ থেকে মতামত নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি কর্মকৌশল সংক্রান্ত এক সভায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে বলে জানােেগছে। এ নিয়ে মুখ্য সচিবকে প্রধান করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তবে এ উদ্যোগটি যতটা দ্রুত হওয়া দরকার ততটা দ্রুত হচ্ছে না বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লীড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, শ্রমিকদের দাম বাড়ায় চীন থেকে আগামী দশ বছরে ৮০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান বেরিয়ে যাবে। এর মধ্যে আমরা হিসাব করেছি বাংলাদেশে শ্রমঘন শিল্পে ১৫ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সম্ভব। কিন্তু এর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য বিনিয়োগ দরকার। অবকাঠামো, জমি, দক্ষ শ্রমিক, অর্থায়ন ও জ্বালানি এগুলোর প্রয়োজন। এর সব এক সঙ্গে করে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির ওপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে যেখানে ৩০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল, চীনে ৩ হাজার এবং ফিলিপিন্সে ৩০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে সেখানে বাংলাদেশে কার্যকর রয়েছে মাত্র ৩টি এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়)। কাজেই অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান তৈরির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
100006
অবকাঠামো ও জমি সমস্যার ফাঁদ ॥ মুখ ঢাকছে বিনিয়োগ
প্রকাশিত: ০৪:৩০, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
জাতীয়



মেজবাহ উদ্দিন তুহিন বাংলাদেশের বনভূমি উজাড়ের ফলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ আজ ভারসাম্যহীন। বন ধ্বংস হওয়ায় দাবদাহ বেড়ে যাওয়ায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনে দিনে গাছপালা হ্রাস পাওয়ায় বৃষ্টির পানি সরাসরি মাটিতে পড়ে ভূমির ক্ষয় ঘটছে। অথচ এ পানি গাছপালা চুইয়ে মাটির নিচের স্তরে জমা হলে শিকড়ের মাধ্যমে নানাস্তরে সঞ্চিত হয়। গাছের লতাপাতায় পানি জমে পচে তৈরি হয় জৈব সার। গাছ বাতাসের আর্দ্রতা ধরে রেখে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, সুষম বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে। ঝড়ঝঞ্ঝা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্বব্যাপী অবিরাম বন উজাড়ের ফলে প্রতিবছর ২.৪ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত করছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে তাপমাত্রা। বিশ্বব্যাপী বন উজাড়ের ফলে প্রায় ৫০ প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্তির পথে। উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ এলাকা মরুতে পরিণত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উজানের ফারাক্কার প্রভাবও পড়ে এখানে। পানি প্রবাহ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে প্রচ- খরা এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি প্রবাহের ফলে মহাপ্লাবনের সৃষ্টি হয়। এসব অঞ্চলে জলবায়ু ক্রমেই মরুময়তার দিকে যাচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের বিনাশসহ নানা পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এক সময় সেচের জন্য ২৫% পানির চাহিদা মিটত নদী-নালা, খাল-বিল থেকে কিন্তু বর্তমানে তা পাওয়া যাচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিবছর সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ছে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, খরা, অধিক বৃষ্টিতে আক্রান্ত হচ্ছে দেশ।বন বিভাগের সূত্র মতে, দেশে ১০.৩ শতাংশ বা ১.৫২ মিলিয়ন হেক্টর ভূমিতে বন থাকলেও ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট ভূখ-ের মাত্র পাঁচ শতাংশ বনভূমি রয়েছে। ১৯৫৫-৫৬ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহ, ঢাকা, রংপুর ও দিনাজপুরে গহীন শাল অরণ্য ছিল। প্রাকৃতিকভাবে শালগাছের ফল মাটিতে পড়ে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে চারা গজাত। স্থানীয় লোকজন নিজেদের স্বার্থেই প্রাকৃতিকভাবে গজানো এসব চারা যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতেন। ১৯৫৩ সালে ছোট ছোট এই শালবন বৃহৎ সরকারী বনে পরিণত হয়। ফলে এগুলো ফরেস্ট রেঞ্জের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর থেকেই কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় বন ধ্বংস হতে থাকে। তারা বন বিক্রি করে গড়তে থাকে নিজেদের অঢেল সহায় সম্পদ। টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে এক সময় বাঘ বাস করলেও সেখানে বানর ও পাখি ছাড়া অন্য কোন বন্যপ্রাণী দেখা যায় না। হারিয়ে গেছে ঔষধি গাছ। আমাদের রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। সুন্দরবন বাংলাদেশের বৃহত্তম ও বিশ্বের অন্যতম বনভূমি। এর মোট আয়তন ৫৬৬৮.৪৫ বর্গকিলোমিটার। এর বেশিরভাগই (৯৯%) খুলনা অঞ্চলে অর্থাৎ খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় অবস্থিত। অতি সামান্য অংশ (১%) পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলায় অবস্থিত। মোট আয়তনের ৩৫ ভাগ পানি এবং ৬৫ ভাগ ভূমি। অসংখ্য ছোট-বড় চারণভূমির ওপর অরণ্য গড়ে উঠেছে। এই বনে প্রায় সাড়ে চারশত ছোট-বড় নদী ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৫ হেক্টর এলাকা নিয়ে বয়ে চলেছে।এখানকার পানিতে ১২০ ধরনের মাছ রয়েছে। বনে পাওয়া যায় ৩২৫ প্রজাতির বৃক্ষলতা। সুন্দরী, গেওরা, ধুন্দুল, গোলপাতা, ওড়া, পশুর আমুর, বাইন, ব্যাঁতাল, ফিসচুলা প্রভৃতি বনের প্রধান বৃক্ষ। বনের গাছগুলো ৩০ থেকে ৬০ ফুট পর্যন্ত লম্বা তবে সুন্দরী বৃক্ষ ২০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এ বনে প্রতিদিন ফুল ফোটে আপন নিয়মে ঝরে পড়ে। এখানে রয়েছে বনজ সম্পদের ভা-ার। জীববৈচিত্র্যে অনন্য এই বনাঞ্চল। ১৭৬৫ সালে সুন্দরবনের জঙ্গল কাটা শুরু হয়। ১৮৮৫ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনের পুরোটাই সংরক্ষিত বন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।এই গহীন অরণ্য নিবিড়, কণ্টকাকীর্ণ, হিংস্র, শ্বাপদসঙ্কুল ও কর্দমাক্ত বলে জনসাধারণের জন্য একসময় ভীতিকর থাকলেও মানুষের অবাধ বিচরণ এবং একশ্রেণীর বন কর্মকতা-কর্মচারীদের অর্থলিপ্সার কারণে এই বনও এখন ধ্বংসের মুখে। প্রতিদিন বিচরণ ঘটে মৌয়ালী, বাওয়ালীদের। সংগ্রহ করে ঝিনুক, শামুক, মধু ও বনজ ঔষধসহ নানা মূল্যবান সম্পদ। অপরাধী জলদুস্য, ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণস্থলও এই সুন্দরবন। প্রকৃতির অপরূপ দান এই সুন্দরবন নানাভাবেই ধ্বংস হতে যাচ্ছে। হারাচ্ছে স্বর্ণোজ্জ্বল ঐতিহ্য। সামাজিক বনায়নের নামে টাকা খরচ করে বৃক্ষরোপণ করা হলেও অসাধু ব্যক্তিদের জোর-জুলুমের কারণে সরকারের সদিচ্ছা ব্যাহত হচ্ছে। কোন দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন ৩৩ শতাংশ বনভূমি। কিন্তু সে দিক দিয়ে আমাদের অবস্থা নাজুক। বন কমে যাওয়ায় আমরা বন্যা ও খরার মোকাবেলা করছি সমানভাবে। পরিবেশ ও অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত। লেখক : গবেষক, উপ-আঞ্চলিক পরিচালক, বাউবি
100007
বন নিধন বিপর্যস্ত পরিবেশ ও প্রকৃতি
প্রকাশিত: ০৪:৩৮, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
ভিন্নখবর



শাহরিয়ার কবির বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবজাতির ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য, এসব অপরাধের পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছর কারাদ- দিয়েছিল এক বছর আগে। এই দ- ভোগ করার আগেই গত ২৩ অক্টোবর (২০১৪) গো. আযম মারা গেছেন বয়সের কারণে। এই ঘৃণিত ঘাতকের স্বাভাবিক মৃত্যু কাম্য ছিল না মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের পরিবারবর্গের এবং গণহত্যাকারীদের বিচারপ্রত্যাশী সমগ্র জাতির। গণমাধ্যমে গো. আযমের মৃত্যু সংবাদ প্রচারের পর শহীদ পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে আবারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার কিছু মারাত্মক ত্রুটির উল্লেখ করে বলেছেন, এসব দ্রুত অপসারিত না হলে ’৭১-এর গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীরা কখনও তাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তিভোগ করবে না, ৩০ লাখ শহীদের পরিবার বঞ্চিত হবে ন্যায়বিচার থেকে এবং ’৭১-এর মতো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পুনরাবৃত্তিও রোধ করা যাবে না। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি দিতে হয় ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রদানের পাশাপাশি এসব অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য। গত শতাব্দীতে সংঘটিত এসব অপরাধের শতকরা ৯০ ভাগেরও বিচার হয়নি, অপরাধীরা শাস্তি পায়নি। যে কারণে এসব অপরাধের পুনরাবৃত্তিও রোধ করা যায়নি। সাত বছর আগে আমার প্রামাণ্যচিত্র ‘যুদ্ধাপরাধ ’৭১’-এ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গণহত্যা বিশেষজ্ঞ, ‘হিস্ট্রি অব জেনোসাইড ফ্রম স্পার্টা টু দারফুর’ গ্রন্থের প্রণেতা অধ্যাপক বেন কিরনান বলেছিলেন, ‘’৭১-এর গণহত্যার জন্য প্রধানত দায়ী পাকিস্তানী জেনারেল এবং বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী। এই গণহত্যার বিচার হয়নি বলে পাকিস্তানী জেনারেলদের শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তারা পাকিস্তানের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ সব কিছুর নিয়ন্ত্রক হয়েছে এবং অন্তিমে আল কায়েদার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশে জামায়াতের নেতাদের বিচার হয়নি বলে তাদেরও শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে, ক্ষমতার শরিক হয়েছে তারা এবং জঙ্গী-মৌলবাদী সন্ত্রাসের জন্ম দিয়েছে। ...বর্তমান বিশ্বে আল কায়েদা ও জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসের জন্ম ও বিস্তারের সঙ্গে ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচার ও শাস্তি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি গভীরভাবে সম্পর্কিত।’ ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শহীদ পরিবারের সদস্যরা রাস্তায় নেমেছেন বাংলাদেশ হানাদারমুক্ত হওয়ার পর পরই। তখন বঙ্গবন্ধুর সরকার দালাল আইন প্রণয়ন করে তাদের বিচারের প্রক্রিয়া আরম্ভ করেছিলেন, যা ১৯৭৫-এ তাঁর নৃশংস হত্যাকা-ের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দেন। তিনি দালাল আইন বাতিল করে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন সব যুদ্ধাপরাধীকে কারাগার থেকে মুক্তির সুযোগ করে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ’৭২-এর সংবিধানে নিষিদ্ধ ঘোষিত মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী অপরাপর গণহত্যাকারী দলসমূহকে স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের আমলেই ১৯৭৮-এর ১১ জুলাই অসুস্থ মাকে দেখার অজুহাতে জামায়াতপ্রধান পাকিস্তানী নাগরিক গোলাম আযম তিন মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। জিয়ার প্রশাসনের সবুজ সঙ্কেত পেয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও গোলাম আযম বেআইনীভাবে বাংলাদেশে থেকে গেছেন। যদিও জনঘৃণার কারণে আত্মগোপনে ছিলেন ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার ক্ষমতালাভের আগ পর্যন্ত। গো. আযমের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা কতটা প্রবল তার প্রমাণ পাওয়া গেছে ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি। এদিন গোলাম আযম বায়তুল মোকাররম মসজিদে গিয়েছিলেন দলের এক কর্মীর জানাজা পড়ার জন্য। উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে চেনামাত্র জুতোপেটা করে মসজিদ থেকে তাড়িয়ে দেন। পরদিন ঢাকার সব কাগজে ফলাও করে গো. আযমকে জুতোপেটার এই ছবি ছাপা হয়েছিল। সকল লজ্জা-শরম বিসর্জন দিয়ে গো. আযমের পরিবার এই বায়তুল মোকাররমে তার লাশ নিয়ে গেছে জানাজা পড়ার জন্য। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে জনঘৃণা তুঙ্গে ওঠে যখন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে জামায়াত তাকে ১৯৯১-এর ২৮ ডিসেম্বর দলের আমির ঘোষণা করে। পরদিন কয়েকটি দৈনিকে এই খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং জাতীয় সংসদের ভেতর আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্য তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অধ্যক্ষ আহাদ চৌধুরীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিক্ষোভ মিছিল করে গো. আযমের কুশপুতুল দাহ করে। এই বিক্ষোভেরই ফলশ্রুতি হচ্ছে ১৯৯২-এর ১৯ জানুয়ারি শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে প্রথমে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ এবং এর তিন সপ্তাহ পরে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠন, যা বাংলাদেশে নাগরিক আন্দোলনে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দেশের ১০১ বরেণ্য নাগরিক একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করে গঠন করেছিলেন ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।’ মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় সহযোগীদের নৃশংসতম গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিবরণ দিয়ে এই ঘোষণার শেষে বলা হয়েছিল ‘আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীবৃন্দ এই মর্মে ঘোষণা করছি, বেআইনীভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানী নাগরিক গোলাম আযমকে যদি অবিলম্বে দেশ থেকে বহিষ্কার করা না হয় তাহলে আগামী ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ২১তম বার্ষিকীর দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশিষ্ট নাগরিক ও আইনজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত প্রকাশ্য গণআদালতে গোলাম আযমের বিচার হবে। যেহেতু গোলাম আযম অপরাধ করেছে এদেশের সমগ্র জনগণের কাছে সেহেতু গণআদালতই হবে এই ঘৃণিত ব্যক্তির বিচারের উপযুক্ত স্থান।... একই সঙ্গে আমরা দাবি জানাচ্ছিÑএকাত্তরের ঘাতকদের দল যারা এখনও স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত সেই জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মব্যবসায়ীদের সকল রাজনৈতিক দল অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে।’ নির্মূল কমিটি গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ৭২টি রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি।’ এই সমন্বয় কমিটির উদ্যোগেই ১৯৯২-এর ২৬ মার্চ গণআদালতে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধী গো. আযমের প্রতীকী বিচারের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে জাহানারা ইমাম গণআদালতের বিচারকম-লীর চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২১তম বার্ষিকীতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচারের জন্য আয়োজিত গণআদালত ছিল বিশ্বব্যাপী গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের আন্দোলনে এক অনন্যসাধারণ সংযোজন। ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকারের জন্য শেখ হাসিনার মহাজোটকে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসনে জয়ী করেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি মহাজোট সরকার ১৯৭৩-এ প্রণীত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’ অনুযায়ী ’৭১-এর গণহত্যাকারী, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ২০১৩ সালে এই ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমসহ ১০ শীর্ষস্থানীয় গণহত্যাকারীকে মৃত্যুদ-, যাবজ্জীবন ও আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করে। ২০১৩-এর ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধী জামায়াতনেতা কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদ- প্রদান না করার প্রতিবাদে তরুণ অনলাইন ব্লগার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শাহবাগ চত্বরে সমবেত হয়ে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান ঘটায়, যার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাঙালীরা এর প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়ে গণহত্যাকারীদের মৃত্যুদ-ের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। শাহবাগে ছাত্র-জনতার মহাসমাবেশ একটানা ১৭ দিন অব্যাহত ছিল, যা প্রমাণ করেছে দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- ছাড়া অন্য কোন দ- চান না। শাহবাগের তরুণরা কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুসারী ছিলেন না। তারা ‘জয় বাংলা’সহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেøাগান দিয়ে শাহবাগ চত্বর থেকে আরম্ভ করে সারা দেশ কাঁপিয়েছেন, রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে নতুন সেøাগান, কবিতা ও গান রচনা করেছেন। এই মহাজাগরণের কেন্দ্রে একটি মাত্র ছবি বিশাল ক্যানভাসে স্থাপিত হয়েছিলÑযেটি ছিল শহীদ জননী জাহানারা ইমামের। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের দাবির কারণে সরকার ১৯৭৩-এর আইন সংশোধন করে বাদী ও বিবাদীর আপীলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। এর পর সুপ্রীমকোর্টের আপীলে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদ-ের পরিবর্তে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়, যা কার্যকর হয়েছে ২০১৩-এর ১২ ডিসেম্বর। গো. আযমের মামলায় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ৬১টি অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও এবং এসব অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদ- বলা হলেও ট্রাইব্যুনালের রায়ে বার্ধক্যের কারণে তাকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। যদিও এই অনুকম্পার জন্য গো. আযম বা তার আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের কাছে কোন আবেদন করেননি। ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের তালিকায় প্রথম নামটি গোলাম আযমের হলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ২১ মাস পর। এই গ্রেফতারের জন্য নির্মূল কমিটিকে রাস্তায় বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন সবই করতে হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে গো. আযমের মামলা চলেছে দেড় বছরেরও বেশি। তারপর রায় ঘোষণা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব মিলিয়ে পৌনে তিন বছরে তাকে এক দিনের জন্যও কারাগারে থাকতে হয়নি। বার্ধক্য ও অসুস্থতার অজুহাতে পুরো সময়টা তিনি ছিলেন দেশের সেরা হাসপাতালে, সেরা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এবং পারিবারিক পরিবেশে; ৩০ লাখ শহীদ পরিবারসহ বিচারপ্রত্যাশী গোটা জাতির ট্যাক্সের টাকায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী এবং বহু বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধাকে জীবনের বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে কারাগারে থাকতে হয়েছে। গো. আযম যে শান-শওকতের সঙ্গে গ্রেফতারকালীন সময় অতিবাহিত করেছেন এ দেশে আর কারও ভাগ্যে তা জোটেনি। গো. আযমের মতো একজন ভয়ঙ্কর অপরাধীর প্রতি রাষ্ট্রের এই আচরণ আমাদের দেশের ন্যায়বিচার ও সভ্যতার বোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি গত দুই দশকে পঞ্চাশেরও অধিক গণহত্যাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি। বহু সভায় গণহত্যা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গণহত্যা এমন এক জঘন্য অপরাধ যার সর্বনি¤œ শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদ-। মৃত্যুদ-ের অধিক কোন শাস্তির যদি সুযোগ থাকত সেটাই দেয়া উচিত গণহত্যাকারীদের। গোলাম আযমের মৃত্যু সংবাদ শুনে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যরা আমাকে ফোন করেছেন, কেঁদেছেন হত্যাকারীদের পালের গোদা গো. আযমের শাস্তি থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তিতে। একজন শহীদের পুত্র এসএমএস করেছেন গো. আযমের লাশ ৯০ বছর মর্গে রাখার দাবি জানিয়ে। তবে অধিকাংশ বলেছেন, উপরে আল্লাহ আছেন। আল্লাহ নিশ্চয় ৩০ লাখ শহীদ পরিবারের ফরিয়াদ শুনবেন। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, এতিমের ফরিয়াদে আল্লাহর আরশও কেঁপে ওঠে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা বিশ্বাস করেন গণহত্যাকারী গো. আযম মৃত্যুর পর অনন্ত নরকের শাস্তি ভোগ করবেন। কারণ মৃত্যুর আগে তিনি তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাননি। শহীদ পরিবারের কেউ তাকে ক্ষমা করেননি। ২০১০ সালের জুনে ঢাকায় আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ধর্মনিরপেক্ষ, মানবতা ও বিশ্বশান্তির ওপর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছিলাম। এই সম্মেলনে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশের অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। সম্মেলনে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে গণহত্যাকারীদের মৃত্যুদ- সম্পর্কে। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।’ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইরান ও নেপালের বক্তারা গণহত্যাকারীদের মৃত্যুদ- সমর্থন করলেও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য সিসিলিয়া উইকস্ট্রম বলেছিলেন, বাংলাদেশ মৃত্যুদ-ের প্রথা বাতিল না করলে এই বিচার তাদের সমর্থন পাবে না। সিসিলিয়ার জবাব দিয়েছিলেন ‘নর্থ আমেরিকান জুরিস্ট এ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রাক্তন সভাপতি, কানাডার সুপরিচিত মানবাধিকার নেতা এ্যাটর্নি উইলিয়াম স্লোন। তিনি বলেছিলেন, কানাডায় মৃত্যুদ- নেই, তিনি নিজেও মৃত্যুদ- সমর্থন করেন না। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভিন্ন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর সরকার ’৭১-এর কয়েক যুদ্ধাপরাধীকে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছিল। ১৯৭৫-এ সরকার পরিবর্তনের পর তাদের সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ্যাটর্নি স্লোন নির্দিষ্টভাবে বলেছিলেন, বাংলাদেশে গণহত্যার অভিযোগে এখন যাদের বিচার চলছে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদ-ই দেয়া উচিত। না হলে সরকার পরিবর্তনের পর এই গণহত্যাকারীরা আবারও শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবে এবং ’৭১-এর গণহত্যার জন্য কেউ কখনও শাস্তি পাবে না। অপরাধকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দিলে সমাজ ও রাষ্ট্রে কী বিপর্যয় সৃষ্টি হয় এ বিষয়ে এ্যাটর্নি স্লোন সম্মেলনে একটি জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধও উপস্থাপন করেছিলেন। গো. আযমের স্বাভাবিক মৃত্যু এ্যাটর্নি স্লোনের এই আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করেছে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, স্বাভাবিক মৃত্যুও একজন ব্যক্তিকে অপরাধের শাস্তি থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। ট্রাইব্যুনাল এবং আমাদের উচ্চতর আদালত যদি সভ্যতার বোধ ও আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধ হন, তাঁরা যদি ’৭১-এর গণহত্যা প্রত্যক্ষ করে থাকেন এবং ৩০ লাখ শহীদ পরিবারের হৃদয়ের বিরামহীন রক্তক্ষরণ অনুভব করেন; তাহলে এই শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়মোচন এবং তাদের পরিবারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের জন্য ভবিষ্যতে গণহত্যাকারীদের মৃত্যুদ- ছাড়া অন্য কোন দ- প্রদান করবেন না, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ২৫ অক্টোবর ২০১৪
100008
গোলাম আযমের স্বাভাবিক মৃত্যু গণহত্যাকারীদের বিচারে মারাত্মক ত্রুটি
প্রকাশিত: ০৪:৩৯, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
ভিন্নখবর



সমাজে ধর্ষণের মতো ঘটনা এখনও ঘটছে। অনেক ঘটনা প্রকাশ পায় আবার অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে যে সব ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তা অনেক ক্ষেত্রে গ্রাম্য সালিশীর মাধ্যমে সুরাহা করা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গ্রাম্য সালিশী হলে সেখানে ধর্ষণের শিকার নারী চরমভাবে নিগৃহীত হয়। অতীতে নারীকে বিচারের নামে একঘরে করা হয়েছে। যখন এই ধরনের ঘটনা চলছিল তারই এক পর্যায়ে আইন করে ফতোয়া নিষিদ্ধ করা হয়। এখনও গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে নারীদের বঞ্চিত করার ঘটনা ঘটছে। ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ। আর শিশু ধর্ষণ আরও জঘণ্যতম অপরাধ। অতি সম্প্রতি এই ধরনের অপরাধের কথাই শোনা গেছে। প্রকাশিত এক সংবাদে জানা গেছে, ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে এক দূর্বৃত্ত। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর এক গ্রামে। ঘটনাটির ব্যাপারে একটি সালিশ বসে। সালিশে ধর্ষিতা শিশুটিকে ৫০টি বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেটা কার্যকর করাও হয়। যেখানে উচিত অপরাধীকে থানায় সোপর্দ করা সেখানে কেন, কিভাবে এ নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হল শিশুটিকে সেটা বোধগম্য নয়। নারীদের ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। অতীতে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, এখনও ঘটছে। দেশে আইন আছে। যে কোন অপরাধের বিচারের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে নারীদের লাঞ্ছনার ঘটনার বিচার গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে করা হয়। তাতে অনেক নারীকে নিগৃহীত হতে হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনকে এড়িয়ে এ ধরনের সালিশ কাম্য হতে পারে না। নারী নির্যাতনের যেসব খবর মিডিয়ায় প্রচারিত বা প্রকাশিত হয় সেটাই যে প্রকৃত সংখ্যা তা মনে করা ঠিক নয়। কারণ অনেক ঘটনাই ঘটে যার খবর মিডিয়ায় আসে না। অনেক নারী নির্যাতনের কথা লোকলজ্জার কারণে প্রকাশ করেন না। যে সব ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ আসে বা মিডিয়ার প্রতিনিধির গোচরে আসে সেগুলোর কথাই শুধু জানা যায়। দেশে সর্বক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে আসছে। শিক্ষা, ব্যবসা, চাকরি সব কিছুতেই তারা এগিয়ে আসছেন। তাদের এই এগিয়ে আসার অর্থ দেশের উন্নয়ন। কিন্তু তাদের এই এগিয়ে আসার পথে কোন কোন দুর্বৃত্ত বাধা সৃষ্টি করে আসছে। এ বাঁধাগুলোকে দূর করা, নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে নিষ্কন্টক করা দেশের স্বার্থেই প্রয়োজন। নারীদের প্রতি যে কোন নির্যাতনের ঘটনা তা ধর্ষণ হোক বা অন্য যা কিছুই হোক প্রতিটি ঘটনার আইনানুগ বিচার করা প্রয়োজন। পটুয়াখালীর ঘটনার বিষয়েও একই কথা প্রযোজ্য । আইন-শৃংখলা কর্তৃপক্ষকে সর্বক্ষেত্রে দাঁড়াতে হবে নির্যাতিত নারীর পাশে।
100009
শিশুটির কি দোষ 
প্রকাশিত: ০৪:৪৫, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
মতামত



পুলিশ জনগণের বন্ধু। জনগণকে পুলিশ সাহায্য করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে এই পুলিশই যদি সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে ব্যাপারটি অবশ্যই চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে। তাদের অপকর্মের কথা মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। এসব কথা প্রকাশিত ও প্রচারিত হয় নানা মিডিয়ায়। অপরাধ দমন করা তথা অপরাধীকে আটক করা যাদের কাজ তাদেরই কেউ কেউ যদি অপরাধেই জড়িয়ে পড়ে তাহলে তার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কি হতে পারে! পুলিশের নানা অপকর্মের কথা আগেও শোনা গেছে, এখনও শোনা যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছে। কারও কারও মুখের ভাষাও অশালীন। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, শেরে বাংলা নগর এলাকায় অটোরিকশা চালকের পরিবারের সঙ্গে অপরাধে জড়িয়ে মিথ্যা অজুহাতে সিএনজি চালক শাহ আলমকে পায়ে গুলি করে এক এসআই । পরে চালকের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে সেই এসআইকে গ্রেফতার করে। এর আগে চালকের পরিবার মামলা করলে উক্ত এসআই চালকের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করে। পরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর চিত্র। চালকের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক থাকায় কাল হয়ে দাঁড়ায় সিএনজি চালকের। ফলে আজ এই করুণ পরিণতি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের গত ১০ মাসে শুধু রাজধানীতেই শতাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই শাস্তি আসলে তেমন কঠিন নয়। সবই সাময়িক সাজা। অনেকে আবার সাজা শেষে তদ্বির করে পোস্টিং ও পদোন্নতি পায়। মাঠপর্যায়ের কোন কোন পুলিশ দুর্নীতিতে জড়িত। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় কর্তব্যরত কোন কোন সার্জেন্টের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। তারা যানবাহন চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অসৎ উপায়ে টাকা আদায় করে। আবার অনেক মানুষের সঙ্গেও অশ্লীল ভাষায় কথা বলে। দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন যাদের কর্তব্য তাদের কারও কাছ থেকে এ ধরনের কোন আচরণ মানুষ প্রত্যাশা করে না। পুলিশ জনগণের বন্ধু এ কথা সরকারের তরফ থেকে বারবারই বলা হয়। মানুষ পুলিশকে সেভাবেই দেখতে চায়। পুলিশ বাহিনীর বিরাট ঐতিহ্য রয়েছে। এই বাহিনীর বহু সদস্যই নিষ্ঠাবান, ত্যাগী এবং সৎ। কিছু কিছু পুলিশের অপকর্মের কারণে গোটা বাহিনীর সুনাম নষ্ট হয়। এ ধারাটিকে বন্ধ করতে হবে, পুলিশকে সত্যিকার অর্থে জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে হবে। কাউকে হয়রানি করা নয়, কারও সঙ্গে অশোভন আচরণ করা নয়, প্রত্যেক নাগরিককে প্রয়োজনে সহায়তা করা, সাহায্য করা পুলিশের দায়িত্ব। তাহলেই পুলিশ বাহিনীর দুর্নাম ঘুচবে, সুনাম বাড়বে এবং পুলিশ হয়ে উঠবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। তাদের আচরণ হতে হবে বন্ধুসুলভ।
100010
পুলিশের আচরণ 
প্রকাশিত: ০৪:৪৬, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
মতামত



মোস্তফা জব্বার ॥ তিন ॥ এর আগে দুই কিস্তিতে আমরা বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চলের একটি গ্রাম ও তার আশপাশের অঞ্চলের রূপান্তরের কিছু কথা বলেছি। এবার এটি শেষ পর্ব। এরই মধ্যে নিশ্চয়ই জানা হয়ে গেছে যে, নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী থানার কৃষ্ণপুরে আমার পৈত্রিক বাড়ি। এটি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত হাওড় এলাকার গভীরে অবস্থান করে। ইতিহাস বলে, এটি প্রাচীনকালের কালিদহ সাগরের অংশ ছিল। বেহুলার বাসর ঘর ছিল সেখানে। সাপ আর বন্যপ্রাণী ছাড়া ওখানে কোন মানুষ বাস করত না। দেশের ৭টি জেলার যে কয়টি উপজেলার পুরোটাই হাওড়ে তার মাঝে খালিয়াজুরী একটি। ৯০টি গ্রামের এই উপজেলাটিতে উপজেলা সদর, মেন্দিপুর, সাতগাঁও এবং আমার গ্রাম কৃষ্ণপুর ছাড়া আর কোথাও সারা বছর চলার মতো এক কিলোমিটারের বেশি সড়কপথ এখনও নেই। বলা হয়ে থাকে যে, একটি ভূমিকম্পে এই অঞ্চলটি তৈরি হয়েছে। ১৭৬২ সালের ভূমিকম্পে এর ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তন হয় বলে অনেকেই মনে করেন। এই অঞ্চলটি প্রত্যন্ত ও দুর্গম বলে দুশো বছর আগেও এখানে জনবসতি ছিল না বলা যায়। ভৈরবের ভাটি (ভাটি বলতে হাওড় অঞ্চলকে বোঝানো হয়। ভৈরব থেকে নরসিংদীর দিকে মেঘনার ভাটিতে) থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেই সময়ে ঐ এলাকায় বসবাস করা শুরু করে যারা আবাদী নামে পরিচিত। ১৭৬২ সালের ভূমিকম্পের ফলে এই এলাকায় ব্রহ্মপুত্র গতিপথ পরিবর্তন করে বলে অনেকের ফসলী জমি কমে যায় এবং সেই কারণে তারা আবাদী হয় বলে মনে করা হয়। আমার দাদাও তেমন একজন আবাদী। এই গ্রাম থেকে ঢাকা আসতে এক সময়ে ৩ দিন ৩ রাত সময় লাগত। এর মাঝে ৩০ কিলোমিটার পথ ছিল যেটুকুতে হেমন্তকালে হাঁটা ও বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া বিকল্প কোন উপায় এখনও নাই। এই পথটা হেঁটে পাড়ি দিতে একদিন যেত। পরের দিন লেগে যেত লঞ্চে-আজমিরীগঞ্জ থেকে ভৈরব। এর পরের দিন ভৈরব থেকে ট্রেনে ঢাকা আসতে হতো। আমার নানার বাড়ি ছিল আশুগঞ্জে। নৌকায় যদি আসতাম তবে পুরো ২ রাত ৩ দিন নৌকায় থাকতে হতো। এবার ঢাকা থেকে বাড়ি গেলাম আট ঘণ্টায়। সড়কপথে সাত ঘণ্টা আর নদীপথে এক ঘণ্টা। সামনের দুয়েক বছরে নদীপথটার আর দরকার হবে না। গাড়ি নিজের বাড়ির উঠানেই যাবে। ১৯৬১ সালে আমি আমার বাড়ির চারপাশে প্রায় ৪০ কিলোমিটারের মাঝে একটি হাইস্কুল পাইনি ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার জন্য। সেই সময়কার হাওড়ের বিবরণ তুলে ধরা হলে মনে হবে যে, এটি মানুষের আদি সভ্যতার সময়কালের কথা বলা হচ্ছে। হতে পারে আমাজনের জঙ্গল। আমি আমার পুরো গ্রামে একজন মাত্র মানুষকে জুতো পায়ে দিতে দেখতামÑ সেটি আমার বাবা। পুরো গ্রামের কোন মানুষকে ব্রাশ বা পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজতে দেখিনি। গ্রামটিতে দুয়েকটা টিনের ঘর ছাড়া সব ঘরই ছিল ছনের। আমার এক চাচার একটি দোতলা দালান ছিল। সেই দালানের জন্য ইট আনা হয়েছিল শত মাইল দূর থেকে। বৈশাখ মাসের শুরুতে গ্রামের মানুষের প্রধানতম কাজ ছিল হাওড় থেকে ছন কেটে এনে ঘরের ছাদ ঠিক করা। আমার নিজের গ্রামে লেখাপড়ার হার বলতে কিছু ছিল না। আমার চাচাত ভাইদের মাঝে আমার আগে মোট ৪ জন ম্যাট্রিক পাস করেছেন। এঁদের একজন এইচএসসি পাস করেছেন। আমার সঙ্গে আরেক চাচাত ভাই এসএসসি পাস করেন। আমাদের গ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট ছিলেন আমার ফুফাত ভাই, যিনি আবার আমার বড় বোনের স্বামীও। আমার আগে অন্য বাড়ির মোট ২ জন ম্যাট্রিক পাস করেন। এছাড়া আর কেউ কোন পাসটাস করেনি। গ্রামে মেয়েদের লেখাপড়া নামক কিছু ছিল না। আমার চাচাত বোনরা কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয় অতিক্রম করেননি। গ্রামের প্রথম মহিলা ¯œাতক আমার ছোট বোন হেলেন আর মেয়েদের মাস্টার্স পাস করা, প্রকৌশলী, স্থপতি বা ডাক্তার হওয়ার পালাটা আমাদের সন্তানদের সময় থেকে শুরু হয়েছে। গ্রামের মেয়েদের ১২-১৪ বছর বয়স হলেই বিয়ে দেয়াটা অতি সাধারণ ঘটনা ছিল। আদিবাসীদের মতো গামছার লেংটি পরা মানুষ হাওড়ে চোখে পড়তই। প্রতিবছর চৈত্র মাসে পুরো এলাকায় দুর্ভিক্ষ বিরাজ করত। গ্রামের মানুষের কাছে সুপেয় পানি বলতে কিছু ছিল না। স্যানিটেশন ব্যবস্থা নামক কিছু কেউ জানত না। প্রায় দু’শ’ বছর আগে গ্রামে প্রথমে একটি মক্তব চালু হয়। আমার দাদা আলিমুদ্দীন মুন্সি সেটি চালু করেন। এরপর চালু হয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একসময়ে কবরস্থান ছিল না বলে মানুষের লাশ ভাসিয়ে দিতে হতো। পরে কবরস্থান ও ঈদগাহ দুটোই গড়ে ওঠে। বাবা গড়ে তোলেন দুটোই। আমি যখন ১৯৬০ সালে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি তখন আমার সঙ্গে আমাদের গ্রামের একজন ছাত্র ছিলেন। পাশের গ্রামের দুইজন ছাড়াও বাইরে থেকে মামার বাড়িতে বেড়াতে আসা একজন ছাত্রী আমার সঙ্গে পড়তেন। পুরো গ্রামটা খালে ভরা ছিল। মানুষ এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি সাঁকোতে যেত। কৃষিপ্রধান বলে গরু-বাছুর তো ছিলই-জ্বালানির জন্য গোবরের চট লেপা একটি অতি সাধারণ কাজ ছিল। গ্রামে একটি হাট ছিল। সেই হাটে কাপড় কাচার বল সাবান, তেল, গুড় ও অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ছাড়া আর কিছু পাওয়া যেত না। যারা বাংলাদেশের হাওড় এলাকা সম্পর্কে জানেন তাদের অবহিত থাকার কথা যে, এলাকাটি কেবল নি¤œাঞ্চল নয়, প্রত্যন্ত ও দুর্গম। ভৈরব রেলসেতুর নদী শাসনের জন্যও এই এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। সম্ভবত হাজার বছর আগেও এখানে কোন বসতি ছিল না। গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলটি জঙ্গলাকীর্ণ থাকায় মানুষ বসবাস করতে পারত না। স্থানীয়রা সংখ্যায় কম থাকায় এখন বস্তুত এই আবাদীদেরই প্রভাব বেশি। মূলত নি¤œবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা অধ্যুষিত এই এলাকায় এখন অবশ্য আবাদী-মুসলমানের সংখ্যা ব্যাপক। সেই এলাকাটির নতুন রূপ এ রকম : পুরো এলাকা ঘুরে একটি ছনের ঘর পেলাম না। সত্যি সত্যি কৃষ্ণপুর গ্রাম তো নয়ই তার পাশের গ্রাম কল্যাণপুর, মামুদনগর; কোথাও একটি ছনের ঘর নেই। মনে পড়ে, প্রতিবছর কার্তিক মাসে মহামারী লেগেই থাকত। গ্রামের পর গ্রাম কলেরায় উজাড় হয়ে যেত। বাবাকে দেখতাম দিনের পর দিন মানুষের বাড়িতেই থাকতেন। এখন সেখানে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র তো আছেই গ্রামের বাজারসহ সব বাজারেই আছে ফার্মেসি। রোগাক্রান্ত মানুষ চোখে পড়ল না একটাও। এই গ্রামেরই দুটি মেয়ে ডাক্তার হয়েছে। এই দুজনের একজন ইথিওপিয়ায় এবং অন্যজন নেদারল্যান্ডসে। আরও আধা ডজন ছেলেমেয়ে ডাক্তারী পড়ছে। একজন ছেলে ডাক্তার ফেনীতে সরকারী হাসপাতালে কাজ করে। গ্রামের বাজারে এক গাদা কম্পিউটারের দোকান। আছে মোবাইলের দোকান; বিক্রি আর মেরামত দুটোই হয় এসব দোকানে। প্রতি সপ্তাহে বাজারে মাল আসে কোটি টাকার। বিলাসী তরল পানীয় থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব্জির কোনটাই বাদ যায় না। এমনকি ফার্মের মুরগি, পুুকুরের পাঙ্গাশ বা রসায়নে ভরা আমের রমরমা বাজার জমে ওঠে প্রতিদিন। এই গ্রামের মানুষ চৈত্র মাসে কচুঘেঁচু খেয়ে বেঁচে থাকত। এখন কচুঘেঁচু তো দূরের কথা, অভাবের চেহারা দেখে না কেউ। এখন সেই গ্রামে কখনও অভাব আসে না। গ্রামের কামলাদের মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকার কাছাকাছি। বর্ষায় যখন কাজ থাকে না তখন ওরা চলে আসে গ্রামের বাইরে। সেখানেও দিনে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কামাই করা যায়। শুধু ঈদের সময় গ্রামে রেমিটেন্স আসে কোটি টাকার। শিক্ষার হার পৌঁছেছে হাওড় এলাকার সর্বোচ্চ। গ্রামের শতভাগ শিশু স্কুলে যায়। যে গ্রামে হাইস্কুল ছিল না সেই গ্রামে একটি ছেলেদের ও একটি মেয়েদের হাইস্কুলের পাশাপাশি একটি ডিগ্রী মাদ্রাসা ও একটি পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজ রয়েছে। ৩টি কেজি স্কুল এবং ৩টি প্রাইমারী স্কুল তো আছেই। গ্রামের একটি প্রাইমারী স্কুলে পেলাম এক জোড়া ভাইবোনকে। ওদের বাবা দিনমজুর। বোনটা ফাইভে আর ভাইটা ফোরে পড়ে। মেয়েটার ইচ্ছা সে ডাক্তার হবে আর ছেলেটা হবে শিক্ষক। গ্রামের রাস্তায় দুদিন হেঁটে হেঁটে স্কুলের ড্রেস পরা শিশুদের দেখে, কথা বলে জানলামÑ অনেকেই কেজি স্কুলে পড়ে। মাসিক বেতন দু’শ’ টাকা। পুরো গ্রামে মানুষ বাস করে হয়ত ৪ হাজার অথচ সেই গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লেখাপড়া করে তার চাইতে বেশি ছেলেমেয়ে। প্রত্যন্ত হাওড়ের পাড়ে এমনকি মেয়েরা হোস্টেলে থেকে কলেজে লেখাপড়া করছে বহু দূর-দূরান্ত থেকে এসে। সেই গ্রামেরই মেয়ে হাসিনা আক্তার। দেখা হলো গ্রামের হাটে। একটি সব্জির দোকানে বসে আলু মাপ ছিল। জানতে চাইলাম, কে চালায় দোকানটা? জানাল সে ও তার বাবা। মালপত্র কোত্থেকে আসে এমন প্রশ্নের জবাবে জানাল, ভৈরব থেকে। সহজাত প্রশ্ন করলাম, তুমি কি ভৈরব থেকে মাল কিনে আনো? না, আমি বা বাবা কেউ ভৈরব যাই না। একটা মোবাইল ফোন দেখিয়ে বলল, আমাদের জিনিসপত্র আসে এই মোবাইলের অর্ডারে। আমিই বলে দেই কী কী কতটা দিতে হবে। টাকা দাও কেমন করে? এই প্রশ্নের জবাবে হাসিনা জানাল, সেটাও মোবাইলে? বাংলাদেশে এখন দৈনিক ৩৩৩ কোটি টাকা শুধু মোবাইলেই লেনদেন হয়। হাসিনাকে দেখে আমার বিস্ময়ের সীমা ছিল না। মনে হচ্ছিল, আমি কৃষ্ণপুরে নয়, কোন এক ভিন্নগ্রহে এসেছি। যে গ্রামে মাত্র ৫০ বছর আগে একজন ছাত্রী পাইনি, সেই গ্রামের সকল মেয়ে লেখাপড়া করে আর কিশোরী মেয়ে হাসিনা লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়িতে বসে ডিজিটাল উপায়ে ব্যবসা করে, এমনটি আমার নিজের স্বপ্নেই ছিল না। আমি আমার দাদার কথা ভাবী। একদিন খালি হাতে শুধু একটি মক্তব করার সামর্থ্য নিয়ে যিনি এই গ্রামে এসেছিলেন, তাঁর গ্রামটি তিনি এখন যদি দেখতেন তবে চিনতে পারতেন বলে আমার মনে হয় না। এরপরও কি আমরা বলব দেশটা বদলায়নি? (সমাপ্ত) ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০১৪ লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক ॥ ই-মেইল : [email protected], ওয়েবপেজ:www. bijoyekushe.net,ww w.bijoydigital.com
100011
একুশ শতক ॥ হাওড় বাংলার রূপান্তর
প্রকাশিত: ০৪:৪৭, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
মতামত



আবদুল মান্নান গোলাম আযম। এক নামেই তাঁকে বাংলাদেশের ষোলো কোটি মানুষ চেনেন। চল্লিশ বছর আগে তাঁকে সাড়ে সাত কোটি মানুষ চিনত, এখন দেশের ভিতরে ষোলো কোটি মানুষ তো চেনেনই, দেশের বাইরেও কোটি কোটি মানুষ এই অভিশপ্ত চরিত্রটিকে চেনেন। তাঁর এই পরিচয় কোন ভাল কাজের জন্য নয়। তাঁর এই ব্যাপক পরিচিতির কারণ তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দখলদার সেনাবাহিনীকে শুধু সকল প্রকার মদদ দিয়েছিলেন তাই নয়, নিজের রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীকে পাকিস্তানী ঘাতক সেনাবাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির। পরবর্তীকালে হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির। গোলাম আযম হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা ও গণহত্যার একজন মূর্ত প্রতীক। একাত্তর সালে তাঁর অপরাধের জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বয়সের কথা বিবেচনা করে গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই কারাদণ্ড ভোগ করা অবস্থায় তিনি গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বঙ্গবন্ধুকে তিনি বাংলাদেশ সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য চরম ঘৃণা করতেন। সেই বঙ্গবন্ধুর নামের হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হলো। খবরটি যখন প্রথম জানা যায় তখন আমি একটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছিলাম। সঙ্গে অনুষ্ঠানের সঞ্চালকসহ আরও চারজন আলোচক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদটি প্রচার করে সঞ্চালক আমাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেন। শুধু বললাম, সংবাদটি অনুষ্ঠানে এসেই শুনেছি, মারা গেছেন কারাগারে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধীর দণ্ড মাথায় নিয়ে, এর বেশি কিছু বলার নেই। অন্যরাও আমার কথার সঙ্গে সুর মেলালেন। গত কয়দিন গোলাম আযমের মৃত্যু সংবাদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ তোলপাড় চলছে। তোলপাড়ের অন্যতম ইস্যু তাঁর মৃত্যু সংবাদটি কোন্ গণমাধ্যম কেমনভাবে প্রচার করেছে তা নিয়ে। কেউ কেউ তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেনÑ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল গোলাম আযমের মৃত্যু সংবাদ প্রচার করে ‘ইন্নালিল্লাহ...’ পড়েছে বা কোন কোন পত্রিকা তা লিখেছে। তাঁদের মতে তা অনুচিত হয়েছে। একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর ‘ইন্নালিল্লাহ’ পড়াটা নিয়ম। কিন্তু গোলাম আযম যেহেতু দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন আর নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে নিজের হাতকে রক্তে রঞ্জিত করেছেন সে কারণে তিনি শাশ্বত ইসলামের মর্মবাণীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ইমাম আবু হুরাইরার মতে, হযরত মুহাম্মদ (দ.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তিই মুসলমান যার জিহ্বা আর হাত হতে সকল মানুষ নিরাপদ থাকে।’ একাত্তরে গোলাম আযমের হাত ও তাঁর জিহ্বার কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এমন কেউই নিরাপদ ছিলেন না। আর বড় প্রশ্ন যাঁদের হত্যাকা-ে গোলাম আযম সহায়তা করেছেন তাঁদের মৃত্যুর পর তিনি কি ‘ইন্নালিল্লাহ’ পড়েছিলেন? একমাত্র জামায়াতের মুখপত্র ‘নয়া দিগন্ত’ গোলাম আযমের মৃত্যু সংবাদটি প্রধান সংবাদ (লিড নিউজ) করে তাঁকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করেছে। তারা তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীও ছেপেছে। কিন্তু সেই জীবনীতে ১৯৭১ সালকে চতুরতার সঙ্গে গায়েব করা হয়েছে। একটি অনলাইন পত্রিকায় গোলাম আযমের কনিষ্ঠ সন্তান সালমান আযমী তাঁর পিতা সম্পর্কে ‘সন্তানের চোখে অধ্যাপক গোলাম আযম’ শিরোনামে একটি পুরনো লেখা পুনর্মুদ্রণ করেছে, যেখানে তিনি বলার চেষ্টা করেছেন তাঁর পিতা কত বড় মাপের একজন মহান ব্যক্তি ছিলেন এবং কী অন্যায়ভাবে তাঁর পিতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে কারাদ- দেয়া হয়েছে। জামায়াত-বিএনপির মতো সালমানও তাঁর লেখায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গোলাম আযম ও তাঁর দল তাঁকে ভাষাসৈনিক হিসেবে পরিচিতি দিতে পছন্দ করে। অনেকের প্রশ্ন তিনি কিভাবে এই তকমার অধিকারী হলেন? ১৯৪৮ সালে যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী ঢাকা সফর করেন তখন ঠিক হলো বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে ডাকসুর পক্ষ হতে একটি স্মারকলিপি দেয়া হবে। ১৯৪৮ সালে ডাকসুর সহ-সভাপতি ছিলেন অরবিন্দ বসু আর সাধারণ সম্পাদক গোলাম আযম। স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত ডাকসুর সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতেন পালাক্রমে, আবাসিক হলভিত্তিক। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি ভোটে প্রথম সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ১৯৪৮ সালে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন গোলাম আযম। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে এর বিরুদ্ধে মুসলিম লীগ সরকারের একটা বড় অভিযোগ ছিল এই আন্দোলন ভারত থেকে আসা হিন্দুদের মদদে হচ্ছে। লিয়াকত আলী খানের হাতে যদি স্মারকলিপিটা অরবিন্দ বসু দেন তা হলে লীগ সরকারের এই প্রচারণা আরও জোর পাবে। ঠিক হলো সহ-সভাপতির বদলে সাধারণ সম্পাদকই স্মারকলিপিটা প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেবেন। গোলাম আযম সেই কাজটিই করেছিলেন। সেই এক কর্মের কারণেই তিনি ভাষাসৈনিক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি একাধিকবার বলেছেন ভাষা আন্দোলন মারাত্মক ভুল ছিল। কেউ কেউ তাঁকে আবার মওলানা ভাসানীর আদলে মজলুম জননেতা বলেও সম্বোধন করেন। কেন করেন তার কোন ব্যাখ্যা নেই। তবে সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে তাঁর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের পরিচয়। ১৯৭১ সালে পুরো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশে সকল ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থেকে যখন বুঝলেন তাঁর সাধের পাকিস্তান ভেঙ্গে যাচ্ছে তখন তিনি ২২ নবেম্বর পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানে পরবর্তীকালে গঠন করেন ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি।’ তাঁর এই সংগঠনকে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর জন্য পরবর্তী কয়েক বছর ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন। তাঁর এই কাজে তাঁকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভুট্টো ব্যাপকভাবে সাহায্য করেন এবং মাহমুদ আলী নামক একজনকে সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর জন্য নিয়োজিত করেন। ১৯৭৩ সালে এই কমিটির নামে গোলাম আযম লন্ডনে একটি দফতর খোলেন এবং সেখান হতে ‘সোনার বাংলা’ নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন যার একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো। ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর জন্য তিনি সৌদি আরব সফর করেন। এর আগে বাংলাদেশকে সৌদি আরব স্বীকৃতি না দেয়ার জন্য তিনি বাদশাহ ফায়সালকে সাতবার অনুরোধ জানান। সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর। তাঁর প্রচারণার মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশ হিন্দুরা দখল করে নিয়েছে এবং সব মাদ্রাসা ও মসজিদকে মন্দিরে রূপান্তরিত করেছে। এগুলো পুনর্নির্মাণ করার জন্য মুক্তহস্তে দান করার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানাতেন। এই কথা বলে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হতে কত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তার কোন হদিস নেই। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালের ১৮ এপ্রিল আরও অনেকের সঙ্গে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল করে। ১৯৭৮ সালের ১১ আগস্ট জিয়াউর রহমানের সরকার গোলাম আযমকে পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়। এই জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতসহ সকল ধর্ম ব্যবসায়ী দলকে স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার অনুমতি দেন। পাকিস্তানী নাগরিক গোলাম আযমকে জামায়াত ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর তাদের আমির নির্বাচিত করে। তবে তিনি বাংলাদেশে ফেরার পর হতেই জামায়াতের মূল নীতি নির্ধারক ছিলেন। গোলাম আযম ও অন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ১৯৯১ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।’ শহীদ জননীর এই আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলাদেশে। তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত হয় গণআদালত, যেখানে গোলাম আযম আর তাঁর দোসরদের প্রতীকী বিচার হয় এবং তাঁদের মৃত্যুদ-ে দ-িত করা হয়। সেই সময় বেগম জিয়া ক্ষমতায়। তাঁর সরকার শহীদ জননীসহ এই গণআদালতের সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁদের ২৪ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলা দায়ের করে এবং মামলা মাথায় নিয়ে শহীদ জননী বাংলাদেশ হতে অনেক দূরে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন। জিয়াউর রহমান হোক আর বেগম জিয়া তাঁদের দু’জনের সঙ্গেই গোলাম আযম ও জামায়াতের একটি আত্মার সম্পর্ক ছিল। গোলাম আযম বা যুদ্ধাপরাধীদের অনেক সুহৃদ প্রায়শ বলে থাকেন বঙ্গবন্ধু সরকার তো যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন, তাহলে আবার তাঁদের বিচারের প্রশ্ন কেন আসবে? তাঁরা ভুল বলেন। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত সাধারণ ক্ষমা সকলের বেলায় প্রযোজ্য ছিল না। সুনির্দিষ্টভাবে যাঁরা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাঁরা এই ক্ষমার আওতার বাইরে ছিলেন, যাঁদের শীর্ষে ছিলেন গোলাম আযম। ২০০৮ সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি ক্ষমতায় গেলে এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে এবং গোলাম আযমসহ তাঁর একাধিক সাথী ঘাতকের সেই ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়েছে। এঁদের কয়েকজনের মৃত্যুদ- ও কয়েকজনের আমৃত্যু কারাদ- হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী প্রজন্ম শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। গোলাম আযমকে আবার ‘অধ্যাপক’ গোলাম আযমও বলা হয়। তিনি ১৯৫০ হতে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত রংপুর কারমাইকেল কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। চার বা পাঁচ বছর কলেজে শিক্ষকতা করলে কেউ ‘অধ্যাপক’ হয় না। এটি হতে হলে অনেক ধাপ পার হতে হয়, যা গোলাম আযম হননি। গোলাম আযম একাত্তরে সব সময় বলতেন ‘পাকিস্তান হচ্ছে বিশ্ব ইসলামের আবাস। সুতরাং পাকিস্তানের অখ-তা না থাকলে জামায়াতের কর্মীদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই।’ গোলাম আযমের পাকিস্তানের অখ-তা বাংলাদেশের ত্রিশ লাখ শহীদ আর আড়াই লাখ নির্যাতিত মা-বোন ১৯৭১ সালে ভেঙ্গে দিয়েছেন। সুতরাং গোলাম আযমের মরদেহ দাফন করার জন্য অবশিষ্ট পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়াটাই যুক্তিসঙ্গত ছিল। যে দেশের জন্মের তিনি বিরোধিতা করেছেন, যে দেশের পবিত্র মাটির সাথে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত মিশে আছে সেখানে গোলাম আযমের কবর দেয়াটা মোটেও সমীচীন নয়। গোলাম আযম বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অভিশপ্ত চরিত্র। বাংলাদেশের মানুষ এই চরিত্রটিকে চিরদিন রাজনীতির একজন খলনায়ক হিসেবেই মনে রাখবেন। ২৫ অক্টোবর, ২০১৪ লেখক : গবেষক ও বিশ্লেষক।
100012
দুষ্টগ্রহের বিদায়
প্রকাশিত: ০৪:৪৮, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
মতামত



ইইউ থেকে বিপুল অর্ডার এম শাহজাহান ॥ বড়দিন সামনে রেখে চাঙ্গা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০-১৫ শতাংশ রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব বড়দিন কেন্দ্র করে তৈরি পোশাকের প্রধান ক্রেতা ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার এখন জমজমাট। আগামী ২৫ ডিসেম্বরের বড়দিনের মার্কেট ধরতে পোশাকের শিপমেন্ট পেতে তাগাদা দিচ্ছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এ কারণে নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুরোদমে শিপমেন্ট কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা এবং জিএসপি ইস্যুতে এ শিল্পে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল তা কেটে যাচ্ছে। রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় পোশাক শিল্পের সুদিন আবার ফিরে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, বড়দিন সামনে রেখে পুরনো এবং নতুন সব বাজারে পোশাক রফতানি বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন বাজারে রফতানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে ভাল। নতুন বাজার থেকে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে নতুন বাজারে প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এছাড়া বড়দিন সামনে রেখে পোশাকের বড় ক্রেতা ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী জনকণ্ঠকে বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব বড়দিন সামনে রেখে তৈরি পোশাক শিল্পখাতের রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন মাসে এ শিল্পের প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ ধারায় থাকলেও এখন তা ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। রফতানি আদেশই বলে দিচ্ছে এখন মার্কেট ভাল অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, বড়দিন একদিনের, কিন্তু উৎসব চলে কয়েকমাস ধরে। ফলে কেনাকাটাও শুরু হবে নবেম্বরের প্রথম দিক থেকেই। ইতোমধ্যে ১০-১৫ শতাংশ রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ গার্মেন্টসে বড়দিনের পোশাক বানানো হচ্ছে। শিল্প মালিকরা যথাসময়ে পোশাক শিপমেন্ট করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আশা করছি জিএসপি ও রানা প্লাজা ধসের পর এ শিল্পে বাড়তি যে চাপ তৈরি হয়েছিল তা কেটে যাবে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বিজিএমইএর গবেষণা সেলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত তিন অর্থবছর ধরে প্রতি বছর নতুন বাজারে রফতানি আয় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নতুন বাজারে সম্মিলিত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর নতুন বাজার হিসেবে তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, আফ্রিকা, ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগাল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত ২৫টি দেশকে নতুন বাজার হিসেবে বিবেচনা করেন রফতানিকারকরা। তবে আলোচ্য সময়ে এসব বাজারের মধ্যে শীর্ষে ছিল তুরস্ক। রফতানি হয়েছে ৬২ কোটি ২৩ লাখ ডলারের পণ্য। এসব বাজারের মধ্যে গত অর্থবছর শীর্ষে থাকা জাপান এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। তবে গত বছরের ৪৯ কোটি ডলার থেকে আয় বেড়ে হয়েছে ৫৭ কোটি ২২ লাখ ডলার। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আগের বছরের আয় থেকে সামান্য বেড়ে রফতানি হয়েছে ৪৩ কোটি ডলারের পণ্য। নতুন বাজারের মধ্যে ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়া সব বাজারেই আগের বছরের তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, রফতানি বাজার হিসেবে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান তাঁরা। এ কারণে নতুন নতুন বাজারের দিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। এসব বাজারে আবহাওয়া এবং স্থানীয় ফ্যাশন নিয়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চাহিদা অনুযায়ী পোশাক উৎপাদনে জোর দিচ্ছেন তাঁরা। এ কারণে রাশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকোসহ লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকারও বেশ কিছু দেশে রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আগামীতে নতুন বাজারের রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যহারে বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।
100013
বড়দিন সামনে রেখে চাঙ্গা দেশের তৈরি পোশাক খাত
প্রকাশিত: ০৬:২০, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
জাতীয়



স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত তিন আসামি অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করছেন। এরা হলেন ৯০ বছরের দ-প্রাপ্ত আসামি গোলাম আযম, আমৃত্যু দ-প্রাপ্ত আব্দুল আলীম, বিচারাধীন অবস্থায় একেএম ইউসুফ। আর আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে আপীল ও দুটি ট্রাইব্যুনালে মোট সাতটি মামলা রায় ঘোষণার জন্য (সিএভি) রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আপীল বিভাগে দুটি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ আশা করছেন সিএভিকৃত মামলাগুলোর রায় শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে আরও নতুন মামলা আসছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক সানাউল হক বলেছেন, এ পর্যন্ত আমরা বেশ কিছু মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। যার মধ্যে ট্রাইব্যুনাল কয়েকটি মামলার রায় প্রদান করেছেন। কিছু মামলা সিএভি রাখা হয়েছে। আরও কিছু মামলার বিচার কাজ চলছে। আমরা আশা করছি শীঘ্রই কয়েকটি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের নাম প্রকাশ করছি না। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দ- দেয়ার পর দুইজন এবং বিচারাধীন অবস্থায় একজন আসামির মৃত্যু হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে ট্রাইব্যুনাল ৯০ বছরের কারাদ- প্রদান করেন। তিনি ২৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের দ- মাথায় নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধেও ট্রাইব্যুনাল আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করেন। তিনি ২০১৪ সালের ৩০ আগস্ট মারা যান। অন্যদিকে রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা একেএম ইউসুফের সাক্ষী চলাকালীন সময়ে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মারা যান। ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করেন। আপীল বিভাগ সেই দ- বাড়িয়ে ঐ বছরের ১৭ আগস্ট ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করেন। তার রায় ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর কার্যকর করা হয়। এছাড়া বর্তমানে আপীল বিভাগ ও দুটি ট্রাইব্যুনালে সাতটি মামলা রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। আপীল বিভাগে রায় ঘোষণার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলাটি সিএভি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ট্রাইব্যুনালে ছয়টি মামলা সিএভি রাখা হয়েছে, মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াতের নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য মীর কাশেম আলী, বিএনপির পলাতক মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন, আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মোঃ মোবারক হোসেন, জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সার ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত নয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ-প্রাপ্তদের মধ্যে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। আমৃত্যু কারাদ-প্রাপ্ত আব্দুল আলীম, ৯০ বছরের কারাদ-প্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম এবং বিচারাধীন অবস্থায় রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা একেএম ইউসুফ অসুস্থ অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে দ-ের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। গোলাম আযমের মামলাটি আপীল বিভাগে শুনানির জন্য ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার কারণে এখন আপীল বিভাগ একটি আদেশ প্রদান করবেন। মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি অকার্যকর হয়ে যাবে। পাশাপাশি দ-প্রাপ্ত বাচ্চু রাজাকার ওরফে আবুল কালাম আজাদ, বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম নায়ক আলবদর বাহিনীর অপারেশন ইনচার্জ চৌধুরী মাঈনুদ্দিন এবং চীফ এক্সিকিউটর মোঃ আশরাফুজ্জামান খান পলাতক থাকায় তারা দ-ের বিরুদ্ধে কোন আপীল করেননি। দুটি আপীল নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে আব্দুল কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া যাবজ্জীবনের শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। সে রায় কার্যকর করা হয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করেছেন আপীল বিভাগ। দীর্ঘদিন হলেও ট্রাইব্যুনাল থেকে কোন রায় আসছে না। এ ব্যাপারে জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ বলছেন, যখন বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য মামলা অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। তখন রায় হবেই। এ নিয়ে অহেতুক কিছু না বলাই ভাল। প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেছেন, জনমনের আকাক্সক্ষা আছে শীঘ্র রায় ঘোষণা করা হোক। আমরাও জনগণের আকাক্সক্ষার সঙ্গে একমত। আশা করছি যে কোন দিন আপীল বিভাগ ও ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলোর রায় ঘোষণা করা হবে। আপীল বিভাগ ও ট্রাইব্যুনাল নিয়ম অনুযায়ীই রায় ঘোষণা করা হবে।
100014
সিএভি মামলাগুলোর শীঘ্রই রায়
প্রকাশিত: ০৬:২০, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
জাতীয়



যুদ্ধাপরাধী বিচার আলীমের আপীলে একই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৯০ বছর কারাদ-প্রাপ্ত ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের নেতা গোলাম আযমের মৃত্যুর কারণে সুপ্রীমকোর্টে বিচারাধীন তার আপীল মামলা অকার্যকর হচ্ছে। আগামী ২ ডিসেম্বর শুনানির জন্য নির্ধারিত দিনেই সুপ্রীমকোর্ট গোলাম আযমের পক্ষে-বিপক্ষে দায়ের করা দুটি আপীল অকার্যকর ঘোষণা করতে পারে বলেই জানিয়েছেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ফৌজদারী মামলায় মৃত্যুর পর কারও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার বিধান নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই আপীল মামলাটি অকার্যকর হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেয়া ৯০ বছরের কারাদ-াদেশ বাতিল করে তাকে খালাস দেয়ার আর্জি জানিয়ে আপীল করেছিল এই যুদ্ধাপরাধীদের নেতা। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের সাজা অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ-াদেশ ও জামায়াত নিষিদ্ধের আরজি জানিয়ে আপীল করেছিল রাষ্ট্রপক্ষও। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে দুটি আপীলেরই একসঙ্গে শুনানি শুরুর দিন ধার্য করেছিল সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ।
100015
গোলাম আযমের আপীল অকার্যকর হচ্ছে ॥ ২ ডিসেম্বর শুনানি
প্রকাশিত: ০৬:২০, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
জাতীয়



নবেম্বরে উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব মোরসালিন মিজান উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আশ্চর্য সুন্দর আসর। বাংলাদেশে। একদিন দু’দিন নয়। ৫ দিনব্যাপী উৎসব। না, কোন মিলনায়তনে নয়। পাঁচ তারকা হোটেলের বলরুমে নয়। রাজধানী ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে। বিশাল এই স্টেডিয়ামে সুরের খেলা শুরু হয় সন্ধ্যা থেকে। সারা রাত ধরে চলে। বিরতিহীন। ক্ল্যাসিকেল মিউজিক। কে শোনবে? এই প্রশ্ন এক সময় উঠেছিল বৈকি। তবে ওই ওঠা পর্যন্তই। শ্রোতা না পাওয়ার আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেছে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম আসর থেকেই হাজার হাজার শ্রোতা। বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রাণভরে উপভোগ করেন উপমহাদেশের বড় বড় উস্তাদের পরিবেশনা। প-িতদের কণ্ঠ যন্ত্রসঙ্গীত শ্রোতাদের বাড়ি ফিরতে দেয় না। এই দৃশ্য সত্যি অভাবনীয়। একবার এমন উৎসবের আয়োজন করতে পারাই অনেক বড় কথা। গৌরবের বিষয়। অথচ প্রতিবছর একই সময়ে উৎসবটি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন আয়োজকরা। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আয়োজন করা হচ্ছে তৃতীয় আসর। বর্ণাঢ্য উৎসবের উদ্বোধন আনুষ্ঠানিক করা হবে ২৭ নবেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। চলবে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আয়োজক সূত্র জানায়, এবারও প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সরব থাকবে মঞ্চ। পরিবেশিত হবে কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীত। ক্ল্যাসিকেল নৃত্যের পরিবেশনা নিয়ে আসবেন বিখ্যাত শিল্পীরা। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী জানান, এ বছর উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে পল্লীকবি জসীম উদ্দীনকে। পঞ্চান্ন ঘণ্টার এই সঙ্গীত সম্মেলনে ভারত ও বাংলাদেশের ১৬০ শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের সম্মেলক বাংলা গান দিয়ে সূচনা করা হবে প্রথম দিনের অধিবেশন। সম্মেলক গানের কারণে এবারের উৎসবে বাংলাদেশী শিল্পীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চূড়ান্ত করা হয়েছে ৭৫ জনের নাম। তবে এই আয়োজনে মঞ্চ আলোকিত করে রাখেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পীরাই। সে তালিকায় এবারও আছেন প-িত হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া, প-িত উলহাশ কাশালকার, বিদুষী গিরিজা দেবী, ওস্তাদ আমজাদ আলী খান, ওস্তাদ রশিদ খান, শিবু কুমার শর্মা, অজয় চক্রবর্তী, কৌশিকী চক্রবর্তী, প-িত তেজেন্দ্র মজুমদারের মতো বিখ্যাত শিল্পী। লুভা নাহিদ জানান, বিখ্যাত এই শিল্পীদের প্রায় প্রত্যেকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। সবাই উৎসবে আসার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহী। ঘোরতর কোন সমস্যা দেখা না দিলে গত দুই বছর যাঁরা উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের প্রায় সবাই আসবেন। গত দুই বছর আসতে পারেননি এমন ওস্তাদ এবং প-িতরাও তৃতীয় আসরে যোগ দেবেন। এই তালিকায় রয়েছেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী পদ্মবিভূষণ বিদুষী কিশোরী আমানকর। তবে শিল্পীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে আরও একটু সময় লাগবে বলে জানান তিনি। উৎসবের বাদবাকি প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর আগে দুইবার উৎসবটি আয়োজনের ফলে আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের প্রচুর লোকজন উৎসব সফল করতে রাতদিন কাজ করছেন। সব ঠিক থাকলে এবারও সফল হব আমরা। তৃতীয় আসরটি প্রসঙ্গে মূল আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের লিটু বলেন, গত বছর এক রাতে ৩৬ হাজার দর্শক জড়ো হয়েছিলেন। এবার রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল। ফলে প্রতিরাতে অর্ধলক্ষ শ্রোতার সমাগম ঘটবে বলে আশা করছি আমরা। কেন এই আয়োজন? জানতে শিল্পের এই পৃষ্ঠপোষক বলেন, সঙ্গীতের মূল রস তো শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে। এক সময় এই ধারার সঙ্গীতে আমাদের দেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। সে ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের একটি চেষ্টা বলতে পারেন। সেই সঙ্গে শ্রোতা ও শিল্পী তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি আমরা। এই উৎসব শ্রোতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করেন তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও উৎসব উপভোগের জন্য কোন টিকেটের প্রয়োজন হবে না। ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে উপভোগ করা যাবে উৎসব। ৩ নবেম্বর থেকে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এ জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট (http:/ww/w.bengalfoundation.org) ভ্রমণ করার পরামর্শ দিয়েছেন উৎসবের আয়োজকরা।
100016
কিংবদন্তিরা আসছেন মাতাবেন ১৬০ শিল্পী, চলছে প্রস্তুতি
প্রকাশিত: ০৬:২১, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
জাতীয়



স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের গুরুত্বপর্ণ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই জায়ান্ট ক্লাব চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চেলসিকে আতিথ্য দেবে লুইস ভ্যান গালের দল। আর এই ম্যাচ দিয়েই দীর্ঘদিন পর নতুন করে দেখা হবে পুরনো দুই বন্ধু লুইস ভ্যান গাল ও জোশে মরিনহোর। যেখানেই যান সেখানেই আলো ছড়ানোর স্বভাব জোশে মরিনহোর। ইতালি, স্পেনের পর আবারও সেই নিজের পুরনো ঠিকানা ইংল্যান্ডেও। চেলসিতে দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম মৌসুমে শিরোপা জিততে না পারলেও পুরোটা সময়জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তার দল। এবারও দুর্দান্ত খেলছে তারা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে এখন পর্যন্ত সবার উপরে অবস্থান করছে তারা। ৮ ম্যাচ খেলে ৭ জয় ও এক ড্রয়ের সৌজন্যে সর্বোচ্চ ২২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানটি দখল করে রেখেছে জোশে মরিনহোর দল। তাদের পর ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। আর ৮ ম্যাচে সমান তিনটি করে জয় ও ড্র এবং ২ ম্যাচে হারের কারণে ১২ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে ম্যানইউ। আজ চেলসিকে পরাজিত করতে পারলে নিজেদের অবস্থানটাকে হয় তো আরও উপরের দিকে নিতে পারবে রেড ডেভিলরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরাজয় না দেখা চেলসিকে ম্যানইউ কী পারবে রুখে দিতে। নিজেদের মাঠ এবং ভক্ত-অনুরাগীদের সামনে খেলবে পার্সি-জানুজাজরা। তবে এই ম্যাচের আগে আলোচনায় দুই কোচ লুইস ভ্যান গাল ও জোশে মরিনহোর বন্ধুত্ব। দীর্ঘ ১৭ বছর আগে স্প্যানিশি জায়ান্ট বার্সিলোনায় শুরু হয়েছিল তাদের সম্পর্ক। এরপর দেড় যুগ কেটে গেলেও সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য রয়েছে তাদের। আর আজ জয় পরাজয় যাই হোক না কেন, তাতেও তাদের সম্পর্কের কোন অবনতি ঘটবে না বলে জানিয়েছেন জোশে মরিনহো। শুধু তাই নয়। লুইস ভ্যান গালের সঙ্গে তরুণ কোচ হিসেবে শুরুটাও দারুণ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্পেশাল ওয়ান মরিনহো। এ বিষয়ে তার অভিমত হলো, ‘তরুণ কোচ হিসেবে লুইসের (ভ্যান গাল) সঙ্গে কাজ করাটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আর তাঁকে যে আমি সম্মান করি এটা সকলের কাছেই জানা। তাঁকে সম্মান করার ক্ষেত্রে কোন কিছুই কখনও লুকাইনি আমি। আমার ক্যারিয়ারের অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে তার প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার সম্পর্কে যে আমার অন্যরকম এক অনুভূতি এটা লুইস নিজেও বেশ ভাল জানেন।’ মরিনহোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ লুইস ভ্যান গালও। ইতালিয়ান সিরি এ লীগ, স্প্যানিশ লা লিগ এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে মরিনহোর। আর এটাই স্পেশাল ওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন লুইস ভ্যান গাল। এ বিষয়ে সাবেক ডাচ্ কোচ বলেন, ‘কোচ হিসেবে সে (জোশে মরিনহো) অসাধারণ। বিভিন্ন দেশে তাঁর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গুণটি সত্যিই চমৎকার। সে খুবই ভদ্র এবং আবেগপ্রবণ। তাই তাকে আমি খুবই পছন্দ করি। আমার কাছে সে একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। কেননা আমি তার সঙ্গে কাজ করেছি এমনকি এখনও আমাদের সম্পর্ক রয়েছে।’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসির ম্যাচ ছাড়াও আজ বার্নলি স্বাগত জানাবে এভারটনকে। আর নিউক্যাসল ইউনাইটেডে সফর করতে যাবে টটেনহাম হটস্পার। চলতি মৌসুমের শেষে অবসরের যাওয়ার কথা প্রকাশ করেছেন কুইন্সপার্ক রেঞ্জার্সের ডিফেন্ডার এবং সাবেক অধিনায়ক রিও ফার্দিনান্দ। আগামী মাসে এই অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাক ৩৬ বছরে পা রাখবেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ১২টি শিরোপা ঘরে তোলার পরে এবারের গ্রীষ্ম ট্রান্সফারে কিউপিআরএ যোগ দিয়েছেন। তবে এখানে আসার পরেই ফার্দিনান্দ স্বীকার করেছেন এটাই হয়তবা তার শেষ ক্লাব। অবসর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফার্দিনান্দ বলেছেন, সম্ভবত এটাই আমার শেষ মৌসুম। অবসর নিয়ে আমি মোটেই শঙ্কিত নই, আমি এর দিকে তাকিয়ে আছি। আশা করছি মৌসুমের বাকি সময়গুলো ভালই কাটবে। ফুটবল খেলতে গিয়ে নিজের বয়স অনুযায়ী ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিদিন অনুশীলনেই নিজেকে নতুন করে শুরু করাতে হয়। ১৯৯৬ সালের মে মাসে ওয়েস্টহ্যামের হয়ে পেশাদার ফুটবল শুরু করেছিলেন ফার্দিনান্দ। লিডস ইউনাইটেডে যাওয়ার আগে চার বছর তিনি উপটন পার্কে কাটিয়েছেন। ২০০২ সালে জুলাইতে ব্রিটিশ রেকর্ড ফি ৩৯ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে তিনি ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ইউনাইটেডে থাকাকালীন তিনি ছয়টি প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা, একটি এফএ কাপ এবং দুটি করে লীগ কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লীগের শিরোপা জিতেছেন। অবসরের পরে ফুটবল নিয়ে কাজ করতে চান অভিজ্ঞ এই ইংলিশ ডিফেন্ডার।
100017
ম্যানইউ-চেলসির হাইভোল্টেজ ম্যাচ আজ
প্রকাশিত: ০৬:২২, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
খেলা



প্রত্যাশা সাকিব আল হাসানের স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জিম্বাবুইয়ের ইনিংস দেখেই বোঝা যাচ্ছে ম্যাচটি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন এখন ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে খেলা। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট তুলে নেয়া সাকিব আল হাসানই বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের ছক কষে দিচ্ছেন। যে ছকে প্রথম ইনিংসে ৩৫০-৪০০ রানের হিসেবই আছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এ রানই করতে চায়। তাহলেই যে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুইয়ের করা ২৪০ রানের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাওয়া যাবে। প্রথম টেস্টে জেতার সম্ভাবনাও খুব ভালভাবেই থাকবে বাংলাদেশের। ক্যারিয়ারে ১২ বার ৫ উইকেট বা তারবেশি উইকেট নিয়েছেন সাকিব। শনিবার প্রথম দিনেই ৫৯ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন। দিন শেষে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে এখন ব্যাটসম্যানদেরই যা করার করতে হবে এমন ইঙ্গিতই দিলেন। জানালেন, ‘যদি ৪০০ রান করতে পারি তাহলে তো খুবই ভাল। পিচটা যে ব্যাটিং উইকেট তা না। আমার কাছে মনে হয় ৩৫০-৪০০ করার মতো সামর্থ্য আমাদের আছে। ৬০০ রান করারও সামর্থ্য আছে। তবে আমার মনে হয় ৩৫০-৪০০ করতে পারলে আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য ভাল হবে।’ সেই ভালটা জয়ের দিকেই ইঙ্গিত। জিম্বাবুইয়ে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে যেমন যবুথবু অবস্থায় ছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও সেই একই রূপ তাদের। প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানের বেশি করতে পারেনি। শুধু সিকান্দার রাজা অর্ধশতক করতে পেরেছেন। সিকান্দারের ৫১ রানই জিম্বাবুইয়ের ইনিংসের সবচেয়ে বড় স্কোর। যে ভুসিমুজি সিবান্দা, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ব্রেন্ডন টেইলর, এলটন চিগুম্বুরা, ক্রেইগ এরভিনদের নিয়ে ভাবনার উদয় হয়েছে, কেউই সারা জাগানোর মতো খেলা উপস্থাপন করতে পারেননি। স্পিন ভীতি যে আগে থেকেই ছিল। সেই স্পিনেই প্রথম ইনিংসে মাত খেয়েছে জিম্বাবুইয়ে। তবে বাংলাদেশও যে মাত খাবে না তা বলা মুশকিল। বল হঠাৎ হঠাৎ এতটা বাউন্স হচ্ছে যা অবাক করার মতোই। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এমনটি কখনই হয়নি। তামিম ইকবালই যে আউট হলেন এমন হঠাৎ আসা বাউন্সারেই। পেসার তিনাশে পানিয়াঙ্গারা বারবারই চেষ্টা করেছেন বাউন্সার দিতে। কিন্তু দলীয় ১০ রানে গিয়ে হঠাৎ করে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বাউন্স হয়ে গেল। আর তাতেই মারবেন না ছাড়বেন-এ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে তামিম (৫) আউট হয়ে গেলেন। আর স্পিন ঘূর্ণি তো শুরু থেকেই আছে। আজ দ্বিতীয় দিনে কী হয় কে জানে। তবে এমন উইকেটেও যে শামসুর রহমান শুভ ও মুমিনুল হক মিলে জিম্বাবুইয়ে বোলারদের শাসন করেছেন, তাতেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন সাকিব। তাই বলেছেনও, ‘দেশের মাটিতে কখনই এত বাউন্স করে নাই। কিছু বল যেভাবে লাফ দিচ্ছে তা কখনই হয় নাই। ওদের পেস বোলাররা কিন্তু ভাল বল করছে। ৮-১০ ওভার যতটুকু বল করেছে ভাল করেছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরাও ভাল করেছে। তামিমেরটা খুবই ভাল বল ছিল। যে দুইজন আছে তারা ভাল এ্যাপ্লাই করেছে। যেহেতু এ কন্ডিশনে খেলে আমরা অভ্যস্ত। আমাদের অভিজ্ঞতাও বেশি। আমরা স্পিন ভাল খেলি। স্পিন একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। আমরা যদি ওদের চেয়ে ভাল এ্যাপ্লাই করতে পারি আমার মনে হয় ভাল একটা অবস্থানে যেতে পারব।’ দিন শেষে বাংলাদেশ কতটা ভাল করল, এর চাইতেও বেশি সাকিবকে নিয়েই মাতামাতি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেশের হয়ে সাকিবের দাপটই বেশি। এমন অলরাউন্ডার নিষিদ্ধ থাকার পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন। মাতামাতি হওয়ারই কথা। তবে সাকিব এগুলো আমলে নিচ্ছেন না। তার লক্ষ্যের কথা জানতে চাইতেই বলেছেন, ‘তেমন কিছু না। টিমের জন্য কন্ট্রিবিউট করা। যেটা করতে পেরেছি তাতে খুশি।’ নিজেকে ভাগ্যবানও ভাবছেন সাকিব, ‘আমি লাকি মনে হয়। দিন শেষে পারফর্মেন্সটাই বড়। তাই করছি। যদি সাপোর্টারদের জন্য খেলতে পারি আমার কাছে মনে হয় এটাই হবে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ তবে বাংলাদেশ যে গেমপ্ল্যান করে খেলতে নেমেছে প্রথম দিনে সফল হয়েছে। এতে সন্তুষ্ট সবাই। সাকিব বললেন, ‘গেমপ্ল্যান ছিল বেসিক যেটা করে সেটা। যেহেতু অলআউট হয়ে গেছে ঠিক আছে। তবে আমাদের দ্রুত উইকেট নেয়ার একটা পরিকল্পনা ছিল। সবাই এ নিয়ে আলোচনাও করেছি। সেটা আমরা করতে পারছি। দ্রুতই ২টা উইকেট নিয়ে নিয়েছি।’ এখন টার্গেট উইকেট আঁকড়ে থাকা, যতক্ষণ সম্ভব ব্যাটিং করা। সাকিব তাই বুঝিয়ে দিলেন, ‘টিমে তিন-চারজন আক্রমণাত্মক বোলার থাকলে, উইকেট টেকার বোলার থাকলে সবার জন্য উপকার হয়। পুরো টিমের জন্যই ভাল। এখন টার্গেট ব্যাটিং করা যতক্ষণ সম্ভব।’ এখন যতক্ষণ বলতে কম করে হলেও ৩৫০ রান চাই। ৪০০ রান হলে তো ভালই।
100018
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লক্ষ্য নিদেনপক্ষে ৪০০
প্রকাশিত: ০৬:২৩, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
খেলা



ফিরেই ৬ উইকেট, জিম্বাবুইয়ে ২৪০/১০, বাংলাদেশ ২৭/১ মোঃ মামুন রশীদ ॥ টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। একই সঙ্গে বোলিং ও ব্যাটিংয়ে অন্যতম স্তম্ভ দলের। মাঠে তাঁর উপস্থিতিই অন্যরকম এক অনুপ্রেরণা সতীর্থদের জন্য। কিন্তু সেই সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। কোচ চান্দিকা হাতুরাসিংহের কথার অবাধ্য হওয়া এবং দর্শক গ্যালারিতে গিয়ে মারামারির ঘটনায় ৬ মাসের জন্য অপরিহার্য এই ক্রিকেটারকেই ৬ মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু ক্যারিবীয় সফরে তাঁর অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ শিবির। অবশেষে শাস্তি কমিয়ে আনার পর মাত্র আড়াই মাসেরও কম সময় মাঠের বাইরে থাকার পর ফেরেন অনুশীলনে। খেলেছেন এশিয়ান গেমসেও। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক উইকেটশিকারী সাকিব। আর বাংলাদেশের চরম প্রতিপক্ষ জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ফিরেই ভেল্কি দেখিয়েছেন বোলিংয়ে। নিয়েছেন মাত্র ৫৯ রানে ৬ উইকেট। ক্যারিয়ারে দ্বাদশ বারের মতো ৫ উইকেট বা তারচেয়ে বেশি শিকার করার গৌরব হলেও জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে এই প্রথম তিনি এ কৃতিত্ব দেখালেন। তাঁর ভয়াল ঘূর্ণি বলের কারণেই সফরকারী জিম্বাবুইয়ের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে মাত্র ২৪০ রানে। বর্তমানে অলরাউন্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে থাকলেও দীর্ঘদিন শীর্ষ আসনে আসীন সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনটা হলো তাই রাজকীয় বেশেই। এ বছর মাত্র চারটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে দুই টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে সাকিবও চলতি বছরে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক উইকেট শিকারী। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেই সর্বাধিক ১২২ উইকেটের মালিক হিসেবে সাকিব জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে মাঠে ফিরলেন। গত জুলাইয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর আবার অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছিলেন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর। এ মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে হওয়া এশিয়াড ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ফিরেছিলেন। আর এখন ফিরলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও। জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে আগে খেলা ৩ টেস্টে মাত্র ৮ উইকেট নিতে পেরেছিলেন। প্রতিপক্ষকে টেস্ট ক্রিকেটে অলআউট করতে যে বোলিং আক্রমণ প্রয়োজন তা অনেকটাই দুর্বলতর হয়ে পড়ে সাকিবের মতো স্পিন জাদুকরের অভাব থাকলে। সেটা এবার ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে বেশ ভালভাবেই পরিলক্ষিত হয়েছে। দুই টেস্টের সিরিজে প্রতিপক্ষকে অলআউট করা দূরে মাত্র ২১ উইকেট নিতে পেরেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডারের স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, তাই সেক্ষেত্রেও সাকিবের অভাব দেখা গেছে। তবে আবার ফিরলেন তিনি। ক্যারিবীয় সফরে দুই টেস্ট খেলতে না পারার আক্ষেপটা ঝাড়তে শুরু করলেন জিম্বাবুইয়ের ব্যাটিং লাইনআপে। সাকিবের ঘূর্ণিতে আগুন। সেটা ভালভাবেই টের পেল জিম্বাবুইয়ের ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের অষ্টম ওভারেই দলের অন্যতম ভরসা সাকিবের হাতে বল তুলে দিলেন অধিনায়ক মুশফিক। মেডেন দিয়ে শুরু। টানা দুটি মেডেন দেয়ার পর ব্যক্তিগত তৃতীয় আর ইনিংসের দ্বাদশ ওভারেই আঘাত হানলেন তিনি। ক্রমেই উইকেটে থিতু হতে থাকা ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে শুরু করলেন ধ্বংসের কাজটা। তাঁকে আর রুখতে পারেনি জিম্বাবুইয়ের ব্যাটসম্যানরা। একের পর আরও পাঁচ ব্যাটসম্যান আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁর বোলিংয়ের সামনে, একের পর এক উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে গেছেন এলটন চিগুম্বুরা, রেগিস চাকাবভা, জন নিয়ুম্বু, তিনাশে পানিয়াঙ্গারা ও তাফাদজাওয়া কামুনগোজি। ৬ উইকেটে ২০০ রান থেকে জিম্বাবুইয়ের ইনিংস আর মাত্র ৪০ রানে গুটিয়ে গেছে সাকিবের ভয়াল ঘূর্ণির একক দাপটে। মাত্র ৫৯ রানেই ৬ উইকেট নিয়ে রাজার বেশেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন তিনি। এখন পর্যন্ত এ বছর এনিয়ে ৪ ইনিংস বোলিং করে ১৫ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে তিনিই সবার ওপর। আর সবমিলিয়ে ক্যারিয়ারে ১২৮ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও তিনিই সবার শীর্ষে। তবে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে এর আগে কখনও ৫ উইকেট পাননি। এবারই প্রথম বাংলাদেশের চিরশত্রুর বিরুদ্ধে ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন তিনি। এনিয়ে ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেট বা তারচেয়ে বেশি শিকার করার গৌরবও দেখালেন। তবে ক্যারিয়ারে এক ইনিংসে ৫ উইকেট বা তারচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের ঘটনা তিনি এনিয়ে ঘটালেন দ্বাদশবারের মতো। একমাত্র অস্ট্রেলিয়া ব্যতীত সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিরুদ্ধেই এমন কৃতিত্ব দেখানো শেষ। অসিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচই খেলেননি তিনি। তবে দিনশেষে জানালেন প্রত্যয়, ‘ওদের বিরুদ্ধে যেহতু খেলিনি তাই বলা যাচ্ছে না কি ঘটবে। তবে যখন খেলব অবশ্যই ভাল করার প্রচেষ্টা থাকবে। খেলে যদি পাঁচ উইকেট নিতে পারি সেটা আমার জন্য এবং দলের জন্যও ভাল হবে।’
100019
সাকিবের রাজসিক প্রত্যাবর্তন
প্রকাশিত: ০৬:২৩, ২৬ অক্টোবর ২০১৪
খেলা



